নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করেই এলপিজি (LPG) সঙ্কট মেটাতে বড় সাফল্য পেল ভারত। সোমবার ‘শিবালিক’ মুন্দ্রা বন্দরে পৌঁছানোর ঠিক ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মঙ্গলবার সকালে গুজরাটের ভাদিনার বন্দরে নোঙর করল আরও একটি পণ্যবাহী জাহাজ ‘নন্দাদেবী’। শিপিং কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (SCI)-র এই ট্যাঙ্কারটি প্রায় ৪৭ হাজার টন রান্নার গ্যাস নিয়ে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ় প্রণালীর বিপদসঙ্কুল পথ পেরিয়ে নিরাপদে দেশে ফিরেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই উত্তাল হয়ে ওঠে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ধমনী হিসেবে পরিচিত হরমুজ় প্রণালী। ইরান কার্যত এই জলপথ অবরুদ্ধ করে রাখায় বিশ্বের একাধিক দেশের পণ্যবাহী জাহাজ সেখানে আটকে রয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে এই পথে মাত্র তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজ যাতায়াতের অনুমতি পেয়েছে, যার মধ্যে দু’টিই ভারতের। সোমবার ‘শিবালিক’ ৪৬ হাজার টন এবং মঙ্গলবার ‘নন্দাদেবী’ প্রায় ৪৭ হাজার টন এলপিজি নিয়ে আসার ফলে দেশে রান্নার গ্যাসের সম্ভাব্য আকাল মেটাতে বড়সড় স্বস্তি মিলল।
নয়াদিল্লি ও তেহরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনার পরেই এই দুই জাহাজকে নিরাপদ করিডোর দেয় ইরান। বিদেশমন্ত্রকের তৎপরতায় দুই দেশ আলোচনার মাধ্যমে নিশ্চিত করে যে, যুদ্ধের উত্তাপ থাকলেও বাণিজ্যিক এই সরবরাহ সচল রাখা হবে। গত কয়েকদিন ধরে গ্যাসের অভাব নিয়ে যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, ৯২,৭০০ মেট্রিক টনের এই বিশাল জোগান সেই উদ্বেগ অনেকটাই প্রশমিত করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
গুজরাটের মুন্দ্রা ও কান্দলা বন্দরে পর পর দুই জাহাজ আসায় রান্নার গ্যাসের জোগানে আপাতত ঘাটতির ভয় নেই। তবে সরকারের তরফে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত হয়ে ‘প্যানিক বুকিং’ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি এখনও থমথমে থাকলেও, এই দুই জাহাজের সফল প্রত্যাবর্তন ভারতের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক কৌশলের বড় জয় হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।