নিউজ ডেস্ক: বর্ধমানের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ক্ষুদিরাম পল্লিতে হাঁসুয়া হাতে রীতিমতো তাণ্ডব চালাল এক গৃহবধূ। অভিযোগ, সামান্য পারিবারিক অশান্তির জেরে নিজের বৃদ্ধা শাশুড়িকে এলোপাথাড়ি কোপ মারে সে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওই বৃদ্ধাকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর হাঁসুয়া হাতে ওই গৃহবধূ পাড়ায় দাপিয়ে বেড়ালে আতঙ্কে অনেকেই নিজেদের বাড়ির দরজা বন্ধ করে দেন।
স্থানীয় সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার সকালে একটি হাঁসুয়া নিয়ে শাশুড়ির উপর চড়াও হয় ওই গৃহবধূ। প্রথমে শাশুড়ির পায়ে কোপ মারা হয়, এরপর ঘাড়ের কাছেও আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ। বৃদ্ধা রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়তেই গৃহবধূ হাঁসুয়া হাতে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে আসে। পাড়ায় বেরিয়ে সে একাধিক বাড়ির দরজাতেও হাঁসুয়ার কোপ মারে। আরও চাঞ্চল্যকর বিষয় হল, নিজের নাবালক ছেলেকে হামলার দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করার নির্দেশ দেয় সে। ছেলে রাজি না হওয়ায় তাকে ভয় দেখালে, সে বাধ্য হয়ে হামলার দৃশ্য ভিডিও করে।
গৃহবধূর এমন রুদ্রমূর্তি দেখে স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। অনেকেই নিজেদের দরজা বন্ধ করে দেন। তবে কয়েকজন সাহসী প্রতিবেশী তাকে আটকানোর চেষ্টা করলে তাদের উপরেও হামলা চালানোর চেষ্টা করে সে। বেশ কিছুক্ষণ চেষ্টার পর স্থানীয়রা তার হাত থেকে হাঁসুয়া কেড়ে নিতে সক্ষম হন।
খবর পেয়ে বর্ধমান থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই বধূকে আটক করে। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, শাশুড়ি বিভিন্ন বিষয়ে তার সঙ্গে অশান্তি করতেন, সেই কারণেই সে তাঁকে মারার ছক কষেছিল। এমনকি, হামলার পর তার মধ্যে কোনও অনুশোচনা দেখা যায়নি এবং নিজের অপরাধ স্বীকার করে সে। পুলিশের কাছে তার দাবি, নিজের অপরাধের প্রমাণ দেওয়ার জন্যই সে ছেলেকে দিয়ে হামলার ভিডিও করায়। এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, “ওই গৃহবধূর কথায় অসংলগ্নতা রয়েছে। সে মানসিকভাবে সুস্থ কি না, তা নিয়ে সংশয় আছে।” এই ঘটনার সময় তার স্বামী বাড়িতে ছিলেন না।
স্থানীয়রা জানান, শাশুড়ি এবং বউমার মধ্যে প্রায় প্রতিদিনই অশান্তি লেগে থাকত। এদিনও সেভাবেই শুরু হয়েছিল। প্রথমে কেউ বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিলেও, পরে শাশুড়ির কান্নার আওয়াজ শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসেন। কিন্তু গৃহবধূর হিংস্র রূপ দেখে পিছু হটেন তাঁরা।