নিউজ ডেস্ক: শুক্রবার রাতে এক রহস্যময় উড়ো ফোনে হুলুস্থুল পড়ে গেল হাওড়া-অমৃতসর পাঞ্জাব মেলে। ট্রেনে বোমা রাখা আছে— রেল কর্তৃপক্ষের কাছে এমন একটি উড়ো ফোন আসতেই তীব্র আতঙ্ক ছড়ায় যাত্রীদের মধ্যে। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার খাতিরে তড়িঘড়ি ট্রেনটিকে হুগলির চন্দনপুর স্টেশনে থামিয়ে দেওয়া হয়। দীর্ঘ চার ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস তল্লাশির পর অবশ্য সন্দেহজনক কিছু না মেলায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে রেল ও পুলিশ প্রশাসন।
রাত ৮টা ২০ মিনিট নাগাদ পাঞ্জাব মেল চন্দনপুর স্টেশনে এসে পৌঁছলে সেটিকে আর এগোতে দেওয়া হয়নি। রেল পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা প্রতিটি কামরায় চিরুনি তল্লাশি শুরু করেন। ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে হাওড়া থেকে বম্ব স্কোয়াডের একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। হুগলি গ্রামীণ পুলিশের সুপার কুমার সানি রাজ জানিয়েছেন, রেলের পক্ষ থেকে খবর পাওয়ার পরেই পুলিশ দ্রুত সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়।
রাতের অন্ধকারে ট্রেনের কামরায় পুলিশ ও বম্ব স্কোয়াডের তল্লাশি দেখে রীতিমতো তটস্থ হয়ে পড়েন যাত্রীরা। ট্রেনের লাগেজ থেকে শুরু করে সিটের তলা— সব কিছুই তন্ন তন্ন করে খোঁজা হয়। দীর্ঘক্ষণ ট্রেন দাঁড়িয়ে থাকায় হাওড়া-বর্ধমান কর্ড লাইনের ট্রেন চলাচলও সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়। পূর্ব রেলের এক শীর্ষ আধিকারিক জানান, যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই তল্লাশি শেষ না হওয়া পর্যন্ত ট্রেনটিকে ছাড়ার ঝুঁকি নেওয়া হয়নি।
অবশেষে রাত ১২টা ২০ মিনিট নাগাদ, অর্থাৎ চার ঘণ্টা পর ট্রেনটি গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, আতঙ্ক ছড়ানোর উদ্দেশ্যেই কেউ এই ভুয়ো ফোন করেছিল। ফোনটি কোথা থেকে এসেছিল, তা শনাক্ত করার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।