নিউজ ডেস্ক: ভোটের মুখে মহানগরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কোনওরকম ঢিলেমি বরদাস্ত করা হবে না— দায়িত্ব নিয়েই লালবাজারের বাহিনীকে এই কড়া বার্তা দিলেন কলকাতার নতুন পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা। বৃহস্পতিবার বিকেলে আলিপুর বডিগার্ড লাইন্সে ইদ সংক্রান্ত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সিপি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এলাকায় মোতায়েন থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনীকে কোনও অবস্থাতেই বসিয়ে রাখা যাবে না। আসন্ন ইদ এবং রামনবমীর মিছিলে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে যথাযথ সমন্বয় রেখে তাদের টহলদারিতে ব্যবহার করতে হবে।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কলকাতা সফরের সময় গিরিশ পার্কে হামলার ঘটনায় কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঠিক সময়ে ব্যবহার না করার অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের রোষানলে পড়েছিল লালবাজার। ওই ঘটনায় ক্ষুব্ধ কমিশন দু’বার সিপির কাছে রিপোর্ট তলব করায় অস্বস্তিতে পড়েছিল পুলিশ প্রশাসন। সেই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে এদিনের বৈঠকে নতুন সিপির এই নির্দেশ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
এদিনের বৈঠকে সিপি আরও নির্দেশ দিয়েছেন যে, নির্বাচনের সময় পুলিশের ভূমিকা কী হবে, সেই সংক্রান্ত কমিশনের নির্দিষ্ট ‘হ্যান্ডবুক’ বা গাইডলাইন প্রতিটি অফিসারকে অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে হবে। কলকাতার প্রতিটি থানায় একটি করে ‘ইলেকশন রেজিস্টার’ তৈরি করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে কমিশনের যে কোনও নির্দেশ পাওয়া মাত্রই তা কার্যকর করে দ্রুত রিপোর্ট পাঠানোর ওপর জোর দিয়েছেন সিপি।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ডিউটিতে যাওয়ার সময় সমস্ত পুলিশ কর্মীর লাঠি, ঢাল এবং হেলমেট সঙ্গে রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সিপি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, অপরাধ দমনে বা দায়িত্ব পালনে যদি কোনও আধিকারিকের পক্ষ থেকে ইচ্ছাকৃত গাফিলতি লক্ষ্য করা যায়, তবে তার দায় সম্পূর্ণভাবে সেই সংশ্লিষ্ট অফিসারকেই নিতে হবে। ইদ ও রামনবমীর মতো সংবেদনশীল সময়ে শহরের শান্তি বজায় রাখতে লালবাজার যে এবার জিরো টলারেন্স নীতিতে চলছে, সিপির এই বার্তায় তা স্পষ্ট।