নিউজ ডেস্ক: দেশের একের পর এক হাসপাতালে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড ও একের পর এক মর্মান্তিক মৃত্যু থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার নড়েচড়ে বসল নবান্ন। সোমবার ওড়িশার কটকের একটি মেডিকেল কলেজে আগুনে পুড়ে ছয় রোগীর মৃত্যুর ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই মঙ্গলবার রাজ্যের সমস্ত সরকারি হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজগুলির জন্য জরুরি নির্দেশিকা জারি করল স্বাস্থ্যভবন। স্বাস্থ্যসচিবের জারি করা ওই নির্দেশে সাফ জানানো হয়েছে, হাসপাতালের বেসমেন্ট বা ভূগর্ভস্থ তলে কোনওভাবেই বাতিল আসবাব বা দাহ্য পদার্থ জমিয়ে রাখা চলবে না।
বিগত পাঁচ বছরে দেশের স্বাস্থ্য পরিষেবা কেন্দ্রগুলিতে আগুনের গ্রাস কেড়ে নিয়েছে অসংখ্য প্রাণ। ২০২১ সালে মহারাষ্ট্রের ভাণ্ডারায় ১০টি দুধের শিশুর মৃত্যু থেকে শুরু করে ২০২৪ সালে ঝাঁসির হাসপাতালের মর্মান্তিক ১০ সদ্যোজাতর মৃত্যু— তালিকাটা দীর্ঘ। এমনকি ২০২৫ সালেও রাজস্থানে আইসিইউ-তে আগুনে পুড়ে মারা গিয়েছেন ছয়জন। এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে বাংলার হাসপাতালগুলির অগ্নি-নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে একগুচ্ছ কড়া পদক্ষেপের কথা জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্যভবনের নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, ওয়ার্ড, সিসিইউ, আইসিইউ ও এইচডিইউ-সহ সংবেদনশীল জায়গাগুলির এসি মেশিন কাজের সময় বাদে অবশ্যই বন্ধ রাখতে হবে। এসির ওয়্যারিং, ডাক্ট এবং কম্প্রেশারগুলি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ হচ্ছে কি না, তাও যাচাই করতে হবে। দমকল ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় হাসপাতালের বেসমেন্টগুলিকে কার্যত আস্তাকুঁড় বানিয়ে দাহ্য বস্তু স্তূপাকার করে রাখা হয়, যা আগুনের তীব্রতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এবার থেকে সেই বেসমেন্ট সম্পূর্ণ সাফ রাখার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা জোরদার করতে ১৮ ফেব্রুয়ারির বৈঠকের সিদ্ধান্তগুলিও অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থির হয়েছে, রোগীদের ব্যবহারের জন্য বরাদ্দ ৩০ হাজার লিটার জলধারণ ক্ষমতার ওভারহেড ট্যাঙ্ক থেকে ১০ হাজার লিটার জল শুধুমাত্র অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলার জন্য সংরক্ষিত রাখতে হবে। নিয়মিত মক ড্রিল চালানোর পাশাপাশি প্রতি মাসের ৭ তারিখের মধ্যে ফায়ার অডিট রিপোর্ট স্বাস্থ্যদপ্তরে জমা দিতে হবে। হাসপাতালের নিরাপত্তার স্বার্থে এই নিয়মের অন্যথা হলে কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দিয়েছে স্বাস্থ্যভবন।