নিউজ ডেস্ক: ডোমজুড় গ্রামীণ হাসপাতালের জরাজীর্ণ দশা এবার ডেকে আনল রক্তক্ষয়ী দুর্ঘটনা। সোমবার বিকেলে হাসপাতালের মিটিং রুমে আশা কর্মীদের প্রশিক্ষণ চলাকালীন আচমকাই খসে পড়ল সিলিং-এর বিশাল চাঙড়। এই ঘটনায় শিখা ঘোষ ও রাখি বালা নামে দুই আশা কর্মী গুরুতর জগত হয়েছেন। খোদ বিএমওএইচ-এর উপস্থিতিতেই এমন হাড়হিম করা কাণ্ড ঘটায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতি নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্বাস্থ্য কর্মীরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার বিকেলে ডোমজুড় গ্রামীণ হাসপাতালের মিটিং রুমে প্রায় ১০০ জন আশা কর্মীকে নিয়ে প্রশিক্ষণ ও বৈঠক করছিলেন বিএমওএইচ (BMOH) ঋদ্ধি চক্রবর্তী। আলোচনা যখন মাঝপথে, ঠিক তখনই বিকট শব্দে সিলিং থেকে একটি বড় চাঙড় সরাসরি দুই কর্মীর মাথার ওপর ভেঙে পড়ে। রক্তাক্ত অবস্থায় চেয়ার থেকে মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন শিখা ও রাখি। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে বিএমওএইচ নিজেই দ্রুত তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করেন। জানা গিয়েছে, দুজনের মাথাতেই বেশ কয়েকটি সেলাই পড়েছে। চিকিৎসার পর তাঁদের অ্যাম্বুল্যান্সে করে বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনার পর থেকেই হাসপাতালের অন্যান্য কর্মীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই মিটিং রুমের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয় ছিল, যে কোনও সময় বড়সড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা ছিলই। হাওড়ার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক (CMOH) কিশলয় দত্ত স্বীকার করে নিয়েছেন যে, ওই ঘরটির অবস্থা সত্যিই ভগ্নপ্রায় ছিল। তিনি জানান, মেরামতির জন্য ইতিপূর্বেই স্বাস্থ্য ভবনে ফাইল পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সেই কাজ শুরু হওয়ার আগেই এই বিপত্তি ঘটল।
বিপর্যয়ের পর নড়েচড়ে বসেছে স্বাস্থ্য দপ্তর। সিএমওএইচ জানিয়েছেন, জরুরি ভিত্তিতে ওই ভবনটি সারানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবারই পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ইঞ্জিনিয়ার পাঠানো হবে। তবে খোদ সরকারি হাসপাতালেই স্বাস্থ্য কর্মীদের নিরাপত্তা এমন প্রশ্নের মুখে পড়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। গোটা বিষয়টি তদন্ত করে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন আধিকারিকরা।