নিউজ ডেস্ক: একদিকে জীবনের বড় পরীক্ষা, অন্যদিকে শরীরের থাবা বসিয়েছে মারণ রোগ। হেপাটাইটিসের উপসর্গ নিয়েও রাজগঞ্জের পানিকৌরিতে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছে এক ছাত্রী। শুধু ওই পরীক্ষার্থীই নয়, রাজগঞ্জ ব্লকের কাওয়ারবাড়ি, পাটাগড়া এবং বুজুরীপাড়ার ঘরে ঘরে এখন জন্ডিস ও জ্বরের প্রকোপ। অথচ অভিযোগ, তিন বছর আগে পাইপলাইন বসলেও গ্রামে পৌঁছায়নি পরিশ্রুত পানীয় জল। বাধ্য হয়েই দূষিত কুয়োর জল খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন গ্রামবাসীরা।
রাজগঞ্জ ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ রাহুল রায় জানিয়েছেন, পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শুক্রবারও আটজন সন্দেহভাজন রোগীর রক্তের নমুনা উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে পাঠানো হয়েছে। স্বাস্থ্য দপ্তরের দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে মাত্র সাত মাসের ব্যবধানে ফের এই এলাকায় সংক্রমণ ছড়িয়েছে। বর্তমানে তিনটি গ্রাম মিলিয়ে প্রায় ৮০-৯০টি পরিবারের কেউ না কেউ এই রোগে আক্রান্ত।
গ্রামবাসীদের অভিযোগের তির প্রশাসনের দিকে। কাওয়ারবাড়ির বাসিন্দা হীরালাল রায়ের দুই ছেলেই হেপাটাইটিসে আক্রান্ত। তিনি আক্ষেপের সুরে বলেন, “তিন বছর আগে পাইপলাইন বসেছে, কিন্তু জল আসেনি। বাধ্য হয়ে কুয়োর জলই স্নান থেকে খাওয়া— সব কাজে ব্যবহার করি। এখন ডাক্তাররা বলছেন জল থেকে রোগ ছড়াচ্ছে।” একই অবস্থা পাটাগড়া গ্রামেরও। সেখানেও একাধিক উচ্চমাধ্যমিক ও মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী অসুস্থ শরীর নিয়েই পরীক্ষা দিচ্ছে।
স্থানীয় তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য বেণীমাধব রায় স্বীকার করে নিয়েছেন যে, পানীয় জলের সমস্যা মেটাতে বারবার দরবার করেও কাজ হয়নি। গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান পাপিয়া সরকার জানান, ‘জল জীবন মিশন’-এর আওতায় কাজ শুরু হলেও ঠিকাদার সংস্থা টাকা না পাওয়ায় কাজ থমকে আছে। প্রশাসনিক উদাসীনতা আর দূষিত জলের জাঁতাকলে পড়ে এখন কার্যত ‘হেপাটাইটিস ডেরায়’ পরিণত হয়েছে রাজগঞ্জের এই গ্রামগুলি।