নিউজ ডেস্ক: রঙের উৎসবের আনন্দ মুহূর্তেই বদলে গেল বিষাদে। হোলির দিন দুপুরে মধ্যমগ্রাম স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় এক বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই হয়ে গেল অন্তত ১৭টি দোকান। এই মর্মান্তিক ঘটনায় আগুনে ঝলসে মৃত্যু হয়েছে দয়াল শীল (৭০) নামে এক বৃদ্ধ শ্রমিকের। দমকলের ৫টি ইঞ্জিনের প্রায় চার ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ততক্ষণে নিঃস্ব হয়ে গিয়েছেন বহু ব্যবসায়ী। কলকাতা বিমানবন্দরের কাছেই এই জনবহুল এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের জেরে তীব্র আতঙ্ক ছড়ায়।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার দুপুর ১টা নাগাদ মধ্যমগ্রাম পুরসভার ২২ নম্বর ওয়ার্ডে রেল ব্রিজ সংলগ্ন একটি কাঠের গোলার ভিতরে রান্নার সময় এলপিজি গ্যাসের পাইপ লিক করে প্রথম আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে সেই আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করে পাশের রেস্তরাঁ, মিষ্টির দোকান, সেলুন ও কাঠের গুদামে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের লেলিহান শিখা ও কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় আকাশ। প্রাণভয়ে এদিক-ওদিক ছুটতে শুরু করেন মানুষজন। কাঠের গোলার কর্মীরা বেরিয়ে আসতে পারলেও, মিষ্টির দোকানে কাজ করা দয়াল শীল আটকা পড়েন এবং অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান।
খবর পেয়ে বারাসত পুলিশ জেলার আধিকারিকরা এবং রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী তথা স্থানীয় বিধায়ক রথীন ঘোষ, পুরপ্রধান নিমাই ঘোষ ঘটনাস্থলে পৌঁছন। মন্ত্রী রথীন ঘোষ জানান, সিলিন্ডার ফেটেই আগুন ছড়িয়েছে, তবে পিছনের বসতি এলাকায় আগুন ছড়ায়নি। অন্যদিকে, পুরসভার বিরোধী দলনেতা অলোক সাহা অভিযোগ করেন, পরিকল্পনা ছাড়াই একের পর এক দোকান গজিয়ে ওঠায় এলাকাটি জতুগৃহে পরিণত হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের জেরে চৌমাথা থেকে স্টেশনগামী রাস্তায় দীর্ঘক্ষণ যান চলাচল বন্ধ থাকে। দমকল আধিকারিকরা জানিয়েছেন, আগুনের প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।