নিউজ ডেস্ক: ভোট ঘোষণা হতেই বীরভূম জুড়ে চড়ছে রাজনীতির পারদ। কিন্তু প্রচারের এই ডামাডোলের মাঝেই চরম অস্বস্তিতে পড়ল রাজ্যের শাসক দল। চুক্তি মোতাবেক টাকা না দেওয়ার অভিযোগে খোদ তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়েই তালা ঝুলিয়ে দিলেন বাড়ির মালিক। বৃহস্পতিবার বীরভূমের মহম্মদবাজার ব্লকের রামপুর গ্রামের এই ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে জেলা জুড়ে। লোকসভা ভোটের আগে ঘটা করে খোলা এই পার্টি অফিস এখন তালাবন্ধ অবস্থায় পড়ে থাকায় ঘাসফুল শিবিরের ‘সম্মান’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি।

সিউড়ির মুরালপুরের বড় রাস্তার ধারে একটি একতলা ঘর রয়েছে স্থানীয় হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক গঙ্গাধর মণ্ডলের। সেখানেই তিনি রোগী দেখতেন। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে প্রায় আড়াই লক্ষ টাকায় ঘরটি কিনে নেওয়ার জন্য তৃণমূলের সঙ্গে একটি চুক্তি হয় তাঁর। সেই মতো গঙ্গাধরবাবু ঘরটি ছেড়ে দিলে সেখানে জাঁকজমক করে খোলা হয় ‘রামপুর অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেস কার্যালয়’। শুরু হয় দলীয় নেতা-কর্মীদের আনাগোনা।

কিন্তু অভিযোগ, দীর্ঘ ২০ মাস কেটে গেলেও তৃণমূল কর্তৃপক্ষ না দিয়েছে বাড়ি কেনার আড়াই লক্ষ টাকা, না জুটেছে কোনও ঘর ভাড়া। ধৈর্যের বাঁধ ভাঙায় বৃহস্পতিবার সকালে নিজেই গিয়ে দলীয় কার্যালয়ে বড়সড় তালা ঝুলিয়ে দেন গঙ্গাধরবাবু। তবে এই ঘটনায় ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমে তৃণমূলের ব্লক সভাপতি কালীপ্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, “আমরা টাকা দিতে পারিনি, তাই সম্মান রক্ষার্থে নিজেরাই তালা ঝুলিয়ে দিতে বলেছিলাম। টাকা না মেটানো পর্যন্ত অফিস বন্ধই থাকবে।”

রামপুর পঞ্চায়েত বর্তমানে বিজেপির দখলে। এই সুযোগ হাতছাড়া করেনি পদ্ম শিবির। বীরভূম সাংগঠনিক জেলার বিজেপি সহ-সভাপতি কৃষ্ণকান্ত সাহার কটাক্ষ, “টাকা না দিয়ে জোর করে পরের সম্পত্তি দখল করাই তৃণমূলের সংস্কৃতি। এটা শুধু রামপুর নয়, সারা বাংলার ছবি।” ভোটের ঠিক মুখে এভাবে জেলা সদর সংলগ্ন এলাকায় শাসক দলের পার্টি অফিস বন্ধ হয়ে যাওয়া জনমানসে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে এখন চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু করেছে রাজনৈতিক মহল।

Share on Social Media