নিউজ ডেস্ক: বিরল ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রোপচারে বড়সড় সাফল্য পেল জলপাইগুড়ি গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল। এক ২৬ বছর বয়সি মহিলার স্তন থেকে প্রায় ৬ কেজি ওজনের বিশালাকার টিউমার (Breast Tumor) সফলভাবে বাদ দিলেন চিকিৎসকরা। মঙ্গলবার চিকিৎসক সঞ্জীবকুমার রায়ের নেতৃত্বে প্রায় দেড় ঘণ্টার প্রচেষ্টায় এই অসাধ্য সাধন হয়েছে। হাসপাতালের ইতিহাসে এত বড় টিউমার অপারেশন এই প্রথম বলে দাবি কর্তৃপক্ষের।
মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা: গড়ালবাড়ির বারোঘরিয়া এলাকার বাসিন্দা মেরিনা বেগম গত ২৫ ফেব্রুয়ারি হাসপাতালে ভর্তি হন। দিনমজুর পরিবারের এই সদস্যের বাম স্তনে গত দুই-তিন বছর ধরে একটি টিউমার দানা বেঁধেছিল। গত কয়েক মাসে সেটি দ্রুত হারে বাড়তে শুরু করে এবং আকার বিশালাকার ধারণ করে। চিকিৎসক সঞ্জীবকুমার রায় জানান, এটি একটি ‘ফাইলয়েড টিউমার’ ছিল, যা অত্যন্ত দ্রুত বৃদ্ধি পায়। টিউমারটি ক্যানসার-যুক্ত হওয়ায় এবং আকারে বড় হওয়ায় অস্ত্রোপচারের সময় প্রচুর রক্তক্ষরণ ও প্রাণসংশয়ের আশঙ্কা ছিল। কিন্তু চিকিৎসকদের দক্ষতায় সেই ঝুঁকি কাটিয়ে তোলা সম্ভব হয়েছে।
বিনামূল্যে চিকিৎসা ও পরিবারের স্বস্তি: দিনমজুরি করে সংসার চালানো এই পরিবারের পক্ষে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করানো ছিল আকাশকুসুম কল্পনা। জলপাইগুড়ি মেডিকেলের সহকারী সুপার সুস্নাত রায় বলেন, “আমাদের এখানেই যাবতীয় পরীক্ষানিরীক্ষা নিখরচায় করা হয়েছে। রোগী বর্তমানে স্থিতিশীল এবং চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে আছেন।” হাসপাতালের এই পরিষেবায় অভিভূত রোগীর পরিবার। সদস্য জসিবুর রহমান বলেন, “বেসরকারি হাসপাতালে যাওয়ার সামর্থ্য ছিল না। জলপাইগুড়ি মেডিকেলের চিকিৎসকরা যে ঝুঁকি নিয়ে আমার দিদির প্রাণ বাঁচিয়েছেন, তাতে আমরা কৃতজ্ঞ।”
হাসপাতালের সাফল্য: হাসপাতালের সুপার ডাঃ কল্যাণ খাঁ এই সাফল্যকে গোটা টিমের জয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন। শল্য চিকিৎসক সঞ্জীবকুমার রায়ের দাবি, দীর্ঘদিনের কর্মজীবনে এত বড় ব্রেস্ট টিউমার তিনি আগে কখনও অপারেশন করেননি। এই সফল অস্ত্রোপচার উত্তরবঙ্গের সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল।