নিউজ ডেস্ক: বড়সড় সাইবার জালিয়াতি ও কয়েক কোটি টাকার আর্থিক তছরুপের অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন বিশিষ্ট শিল্পপতি পবন রুইয়া। মঙ্গলবার নিউটাউনের একটি নামী হোটেলের সামনে থেকে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের সাইবার ক্রাইম উইংয়ের অফিসাররা তাঁকে গ্রেপ্তার করেন। তদন্তকারীদের দাবি, দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কয়েক হাজার সাইবার প্রতারণার টাকা এই শিল্পপতির নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন ‘শেল’ বা কাগুজে কোম্পানির অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে। কলকাতা হাইকোর্ট তাঁর ওপর থেকে আইনি ‘রক্ষাকবচ’ সরিয়ে নিতেই তড়িঘড়ি এই পদক্ষেপ নিল পুলিশ।
৯৩ লক্ষের প্রতারণা থেকে তদন্তের সূত্রপাত:
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালের এপ্রিলে। নিউটাউনের বাসিন্দা স্বপনকুমার মণ্ডল নামে এক ব্যক্তি শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের টোপ গিলে ৯৩ লক্ষ টাকা খুইয়েছিলেন। একটি জাল অ্যাপের মাধ্যমে বিপুল লাভের আশা দেখিয়ে তাঁর কাছ থেকে এই মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ দায়ের হতেই তদন্তে নামেন অফিসাররা।
রুইয়া হাউসের ‘কাগুজে কোম্পানি’ ও ক্রিপ্টো যোগ:
তদন্তে নেমে গোয়েন্দারা দেখেন, প্রতারণার টাকাগুলি সরাসরি ঢুকছে একাধিক কাগুজে কোম্পানির কারেন্ট অ্যাকাউন্টে। পুলিশের দাবি:
-
কেন্দ্রবিন্দু রুইয়া হাউস: সৈয়দ আমির আলি অ্যাভিনিউতে অবস্থিত ‘রুইয়া হাউস’ থেকেই এই কোম্পানিগুলি নিয়ন্ত্রিত হত।
-
বিপুল জালিয়াতি: ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম রিপোর্টিং পোর্টাল (NCRP) অনুযায়ী, দেশজুড়ে ১৩৭৯টি সাইবার জালিয়াতির টাকা এই অ্যাকাউন্টগুলিতে জমা পড়েছে। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গেই রয়েছে ১০০টি অ্যাকাউন্ট।
-
টাকা পাচার: জমা পড়া টাকা দ্রুত ক্রিপ্টো কারেন্সিতে (Crypto Currency) রূপান্তর করে বিদেশে পাচার করে দেওয়া হত বলে অভিযোগ।
-
অস্তিত্বহীন অফিস: ১৮৬টি কাগুজে কোম্পানির মধ্যে ১৪৭টির ঠিকানা ছিল এজরা স্ট্রিট। কিন্তু বাস্তবে ওই ঠিকানায় কোনও অফিসের অস্তিত্বই মেলেনি।
রক্ষাকবচ উঠতেই জালে শিল্পপতি:
এই জালিয়াতি চক্রে পবন রুইয়া ও তাঁর পরিবারের চার সদস্যের নাম জড়ানোয় তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) করা হয়। এর আগে কলকাতা হাইকোর্ট তাঁদের গ্রেপ্তারির ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছিল। কিন্তু মঙ্গলবার আদালত সেই রক্ষাকবচ তুলে নিতেই সক্রিয় হয় বিধাননগর পুলিশ। বিকেলে নিউটাউন এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।
এই গ্রেপ্তারি শিল্পমহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পবন রুইয়ার পরিবারের অন্য সদস্যদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তদন্তকারীদের অনুমান, এই চক্রের শিকড় বিদেশেও বিস্তৃত থাকতে পারে। ধৃত শিল্পপতিকে হেফাজতে নিয়ে জালিয়াতির পুরো ‘চেইন’ বা শৃঙ্খলটি ভেঙে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সাইবার ক্রাইম উইং।