নিউজ ডেস্ক: মুর্শিদাবাদ: রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের বাদ্যি বাজার আগেই বড়সড় বিপাকে আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা তথা তৃণমূলের বহিষ্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। জলাজমি ভরাট করে বেআইনিভাবে বসতবাড়ি নির্মাণের অভিযোগে এবার তাঁর স্ত্রী মিতা সুলতানাকে তলব করল পুলিশ। বুধবার শক্তিপুর থানায় তাঁকে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
মুর্শিদাবাদের মাণিক্যহার গ্রামে হুমায়ুন কবীরের যে বাসভবনটি রয়েছে, সেটি তাঁর স্ত্রী মিতা সুলতানার নামেই নথিভুক্ত। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি নথিতে জমির চরিত্র বদল না করেই সেখানে বিশাল ইমারত তোলা হয়েছে। শুধু তাই নয়, নির্দিষ্ট একটি ‘নালা’ বা জলাশয় বুজিয়ে এই নির্মাণকাজ করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এই মর্মে আগে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরের পক্ষ থেকে হুমায়ুন-পত্নীকে নোটিস পাঠানো হয়েছিল।
মাণিক্যহার মৌজার ৯২ নম্বর জে এল এবং ৪৪০৪ নম্বর প্লটের প্রায় ০.২ একর জমি নিয়ে এই বিবাদ।দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, স্থানীয় বাসিন্দাদের গণস্বাক্ষর সম্বলিত একটি অভিযোগ জমা পড়ার পরেই তদন্ত শুরু হয়। ১৯৫৫ সালের পশ্চিমবঙ্গ ভূমি সংস্কার আইন (WBLR Act) লঙ্ঘন করে কেন জমির চরিত্র বদল করা হয়েছে, সাত দিনের মধ্যে তার সদুত্তর চাওয়া হয়েছে। সন্তোষজনক জবাব না মিললে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিকের কথায়, “নালা প্রকৃতির জমি সাধারণত জল নিকাশির জন্য ব্যবহৃত হয়। অনুমতি ছাড়া এর চরিত্র বদল করা দণ্ডনীয় অপরাধ।
“পাল্টা সুর চড়িয়েছেন হুমায়ুন কবীরও। তাঁর দাবি, “২০০৩ সালে ওই জমি কিনে ২০০৫ সাল থেকে বাড়ি তৈরির কাজ শুরু করি। ২০০৭ সাল থেকে সপরিবারে ওখানে থাকছি। বাম আমলে বহুবার জমির চরিত্র পরিবর্তনের জন্য বিএলআরও অফিসে চক্কর কেটেছি, সরকারি ফিজও জমা দিয়েছি। কিন্তু কাজ হয়নি।” রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলে তিনি আরও বলেন, “তৃণমূল ছেড়ে নতুন দল গড়াতেই এখন বেছে বেছে আমাকে টার্গেট করা হচ্ছে। শুধু আমার বিরুদ্ধে কেন? এলাকায় আরও যাঁরা একইভাবে ঘরবাড়ি বানিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
ভোটের আবহে এই ‘বাড়ি-বিতর্ক’ যে হুমায়ুনের অস্বস্তি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য।