নিজস্ব সংবাদদাতা, কীর্ণাহার:
দীর্ঘ ১০৯ বছরের বঞ্চনা ঘোচাতে এবং সরাসরি কলকাতা যাওয়ার ট্রেনের দাবিতে, বুধবার ১৮ই ফেব্রুয়ারি সকাল ৬টা থেকে ঐতিহাসিক অনশন শুরু হয়েছিল বীরভূমের কীর্ণাহার রেল স্টেশনে। কিন্তু গণতান্ত্রিক সেই আন্দোলন বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দিল না প্রশাসন। রেল পুলিশ (GRP) এবং রাজ্য পুলিশের (WBP) চাপে দুপুর আনুমানিক ১২:৩০ নাগাদ অনশন কর্মসূচি প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন আন্দোলনকারীরা।
‘আহমদপুর কাটোয়া রেলওয়ে প্যাসেঞ্জার অ্যাসোসিয়েশন’-এর ডাকে এদিন সকাল থেকেই স্টেশনে ভিড় জমাতে শুরু করেন এলাকার মানুষ। দাবি ছিল একটাই—রামপুরহাট বা আহমদপুর থেকে লাভপুর-কীর্ণাহার-কাটোয়া-নবদ্বীপ ধাম-ব্যান্ডেল হয়ে সকালে হাওড়া বা শিয়ালদহ যাওয়ার এবং বিকেলে ফেরার একটি সরাসরি ট্রেন চালু করতে হবে।
সংগঠনের সদস্য সুবীর সেন, রাহুল মন্ডলরা জানান, “আমরা ২০২১ সাল থেকে শান্তিপূর্ণভাবে এই দাবি জানিয়ে আসছি। প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি ও রেলমন্ত্রীর দপ্তরে বারবার চিঠি দিয়েও কোনো সুরাহা হয়নি। তাই আজ বাধ্য হয়েই আমরা অনশনের পথ বেছে নিয়েছিলাম।”
তবে ঘটনার মোড় ঘোরে দুপুরের দিকে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সকালের দিকে রেল পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলেও, বেলা বাড়ার সাথে সাথে ‘উপরতলার নির্দেশ’-এর দোহাই দিয়ে চাপ সৃষ্টি করা শুরু হয়। স্থানীয় পুলিশ ও জিআরপি আধিকারিকরা জানান, “উপমহল থেকে আমাদের উপর চাপ সৃষ্টি করছে, এবং আপনারা দীর্ঘক্ষণ স্টেশনে বসে থাকতে পারবেন না।” প্রশাসনের এই উচ্চপদস্থ নির্দেশের চাপে পড়ে এবং ভবিষ্যতে আলোচনার পথ খোলা রাখতে দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ অনিচ্ছা সত্ত্বেও অনশন তুলে নিতে বাধ্য হন তাঁরা।
এলাকাবাসীর কথায়, “একটি মাত্র সরাসরি ট্রেন আমাদের বিলাসিতা নয়, ন্যায্য অধিকার।” যদিও যাত্রী সংগঠনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, আজকের মতো কর্মসূচি স্থগিত হলেও, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের গণতান্ত্রিক লড়াই থামবে না এবং পরবর্তীতে আরো বৃহত্তর আন্দোলনের পথে নামতে চলেছে যাত্রী সংগঠন।