নিউজ ডেস্ক: ভোটের মুখে শহর কলকাতায় ফের অশান্তির আগুন। এবার ঘটনাস্থল পূর্ব যাদবপুরের যমুনানগর। এলাকায় বেপরোয়াভাবে বাইক চালানো এবং বিকট শব্দে হর্ন বাজানোর প্রতিবাদ করায় আক্রান্ত হলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। রবিবার রাতের এই ঘটনায় চলল গুলি, এমনকি এক প্রতিবাদীর গায়ে পেট্রল ঢেলে পুড়িয়ে মারার চেষ্টার মতো ভয়াবহ অভিযোগও উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাহায্য নিতে হয়েছে। ঘটনায় মূল অভিযুক্ত অঙ্কিত জয়সওয়াল-সহ ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত রবিবার রাত ৮টা নাগাদ। স্থানীয় সূত্রে খবর, ১৯ বছরের যুবক অঙ্কিত জয়সওয়াল এলাকায় অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এবং বিকট শব্দে হর্ন বাজিয়ে বাইক চালাচ্ছিলেন। সেই সময় রবি নস্কর নামে এক প্রতিবেশী এক আত্মীয়ের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যাচ্ছিলেন। জনবহুল এলাকায় এভাবে বাইক চালানোর প্রতিবাদ করতেই অঙ্কিত বাইক থেকে নেমে রবিকে মারধর শুরু করেন বলে অভিযোগ।
গভীর রাতের সংঘর্ষ ও অস্ত্রশস্ত্রের দাপট:
মারধরের প্রতিবাদ জানাতে রাতে অঙ্কিতদের বাড়ির সামনে জড়ো হন রবি ও তাঁর সঙ্গীরা। অভিযোগ, সেই সময় অঙ্কিত ফোন করে তাঁর দলবলকে ডেকে নেন। মুহূর্তের মধ্যে এলাকা রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। প্রতিবাদীদের দাবি:
-
মারাত্মক অস্ত্র: অঙ্কিতের অনুগামীরা লোহার রড, কুড়ুল এবং আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে চড়াও হয়।
-
খুনের চেষ্টা: গোলমালের সময় একজনের গায়ে পেট্রল ঢেলে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন রবি নস্কর।
-
গুলির লড়াই: স্থানীয়দের একাংশের দাবি, গভীর রাতে দু’পক্ষের মধ্যে গুলিও চলেছে। তবে লালবাজার বা পুলিশি সূত্রে গুলি চালানোর বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুট মার্চ ও গ্রেফতারি:
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পূর্ব যাদবপুর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। উত্তেজনা চরমে থাকায় এলাকায় মোতায়েন করা হয় নির্বাচনে আসা কেন্দ্রীয় বাহিনীকেও (CRPF)। পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে তল্লাশি চালায় পুলিশ। ঘটনায় গুরুতর আহত নরেন দাস নামে এক ব্যক্তি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। রবির মাথা ও হাতেও চোট লেগেছে। খুনের চেষ্টার ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ এখনও পর্যন্ত ৮ জনকে শ্রীঘরে পাঠিয়েছে।
নির্বাচনের আগে শহরের বুকে সাধারণ পাড়ার গণ্ডগোলে কীভাবে রড, কুড়ুল বা আগ্নেয়াস্ত্রের মতো মারণাস্ত্র বেরিয়ে আসছে, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, নির্বাচন কমিশনের কড়াকড়ি সত্ত্বেও শহরজুড়ে বেআইনি অস্ত্রের রমরমা কমেনি। অন্যদিকে, অঙ্কিতের পরিবার পাল্টা দাবি করেছে যে, রবিরাই প্রথমে তাঁদের বাড়িতে চড়াও হয়ে গালিগালাজ ও হামলা চালিয়েছিলেন। আপাতত সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।