নিউজ ডেস্ক: হুবহু আসল পাঁচশো টাকার নোটের মতো দেখতে, কিন্তু উল্টে পাল্টে দেখলেই চক্ষু চড়কগাছ! সাদা কাগজের বান্ডিলের ওপর কালার জেরক্স করা কয়েকটা ৫০০ টাকার নোট দিয়ে কয়েক কোটি টাকার জালিয়াতির ছক কষেছিল দুই ব্যক্তি। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। শহরের এক ব্যবসায়ীকে ৩০ লক্ষ টাকা দিতে এসে হাতেনাতে ধরা পড়ে গেল রাজস্থানের বাসিন্দা দুই জালিয়াত। সোমবার হেয়ার স্ট্রিট থানার পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করেছে। উদ্ধার হয়েছে কয়েক বান্ডিল জাল নোটের প্রতিলিপি।
মঙ্গলবার ধৃতদের ব্যাঙ্কশাল আদালতে পেশ করা হলে বিচারক আগামী ২ এপ্রিল পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। ধৃতদের কাছ থেকে বাজেয়াপ্ত হওয়া সেই বিচিত্র ‘টাকার বান্ডিল’ এখন পুলিশের হাতে বড়সড় তথ্যপ্রমাণ।
জালিয়াতির অভিনব কায়দা:
ধৃতরা রাজস্থান থেকে কলকাতায় এসে বড়সড় প্রতারণা চক্র চালানোর ছক কষেছিল। তাদের কারসাজি ছিল অত্যন্ত সাধারণ কিন্তু ধূর্ত:
-
বান্ডিলের কারসাজি: মোটা সাদা কাগজের ওপর ও নিচে আসল ৫০০ টাকার কালার জেরক্স কপি লাগিয়ে দেওয়া হত। দূর থেকে বা কম আলোয় দেখলে মনে হবে গাদা গাদা ৫০০ টাকার আসল নোটের বান্ডিল।
-
৩০ লক্ষের টোপ: অভিযোগ, শহরের এক ব্যবসায়ীকে এই ধরণের জাল বান্ডিল দিয়ে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তারা। বিনিময়ে তাঁর থেকে বড় অঙ্কের কোনও সুবিধা বা আসল টাকা হাতিয়ে নেওয়াই ছিল মূল উদ্দেশ্য।
আদালতের সওয়াল-জবাব:
সরকারি কৌঁসুলি অভিজিৎ চট্টোপাধ্যায় আদালতে জানান, ধৃতদের বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও প্রতারণার সুনির্দিষ্ট মামলা রুজু করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে উদ্ধার হওয়া ওই কালার জেরক্স কপিগুলি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবী যে কোনও শর্তে জামিনের আবেদন করলেও, সরকারি কৌঁসুলি তার তীব্র বিরোধিতা করেন। তাঁর দাবি, এই চক্রের সঙ্গে রাজস্থানের আরও কোনও বড় গ্যাং যুক্ত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
পুলিশের সতর্কবার্তা:
তদন্তকারীরা মনে করছেন, বড় অঙ্কের লেনদেনের সময় ব্যবসায়ীদের বিভ্রান্ত করতেই এই ধরণের ‘কালার জেরক্স’ পদ্ধতি ব্যবহার করছে জালিয়াতরা। শুধু হেয়ার স্ট্রিট নয়, শহরের অন্য কোথাও এই চক্র হানা দিয়েছিল কি না, তা জানার চেষ্টা চলছে। বড় কোনও ডিল বা ক্যাশ লেনদেনের সময় প্রতিটি বান্ডিল খুঁটিয়ে দেখার পরামর্শ দিয়েছে লালবাজার।