নিউজ ডেস্ক: চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাল উত্তর ২৪ পরগনার দুই প্রান্ত। সোদপুরে মন্দিরে চুরির চেষ্টায় দুই যুবককে গণধোলাই দিলেন উত্তেজিত গ্রামবাসীরা। অন্যদিকে, জগদ্দলে একটি ব্যাটারি কারখানায় চুরির অভিযোগে ৭ জন শ্রমিককে কাজ থেকে বসিয়ে দেওয়ার ঘটনায় শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর। লোকসভা ভোটের মুখে এই দুই ঘটনাকে কেন্দ্র করে খড়দহ ও জগদ্দল এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
সোদপুরে মন্দির চত্বরে হাতেনাতে পাকড়াও:
মঙ্গলবার সকালে সোদপুরের ৮ নম্বর রেলগেট সংলগ্ন একটি মন্দিরে চুরির উদ্দেশ্যে তিন জন অপরিচিত যুবককে ঘোরাঘুরি করতে দেখেন স্থানীয়রা। সন্দেহ হওয়ায় গ্রামবাসীরা তাঁদের দিকে এগিয়ে গেলে পালানোর চেষ্টা করেন অভিযুক্তরা। ধাওয়া করে দুই জনকে ধরে ফেলেন বাসিন্দারা, যার মধ্যে একজন নাবালক বলে জানা গিয়েছে। ক্ষুব্ধ জনতা সেখানেই তাঁদের চড়-থাপ্পড় ও মারধর শুরু করেন। খবর পেয়ে খড়দহ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, মন্দিরের কোনও বিগ্রহ বা অলঙ্কার খোয়া গিয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
জগদ্দলে ব্যাটারি কারখানায় চুরি ও শ্রমিক ছাঁটাই:
জগদ্দলের একটি নামী ব্যাটারি কারখানায় চুরির অভিযোগে মঙ্গলবার সাত জন শ্রমিককে কাজ থেকে বসিয়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আসরে নেমেছেন সংশ্লিষ্ট বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি ও তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
বিজেপির দাবি: বিজেপি প্রার্থী ডাঃ রাজেশ কুমার সাংবাদিক বৈঠক করে দাবি তুলেছেন, ওই সাত কর্মীকে শুধু বসিয়ে রাখলে হবে না, তাঁদের অবিলম্বে ‘সাসপেন্ড’ করতে হবে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়ের করতে হবে। এমনকি ওই ঠিকাদারি সংস্থার লাইসেন্স বাতিলের দাবিও তুলেছেন তিনি।
-
তৃণমূলের পাল্টা তোপ: তৃণমূল প্রার্থী সোমনাথ শ্যাম জানান, চুরির ঘটনায় কর্তৃপক্ষ নিজস্ব সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাঁর দাবি, “জগদ্দলের মানুষ বহিরাগত বিজেপি প্রার্থীকে মেনে নিতে পারছেন না, তাই চুরির মতো সাধারণ বিষয় নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে বাজার গরম করার চেষ্টা করছেন রাজেশ কুমার।”
নির্বাচনের মুখে চুরির এই ঘটনাগুলি স্রেফ আইনশৃঙ্খলা সমস্যার গণ্ডি ছাড়িয়ে রাজনৈতিক অস্ত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। জগদ্দল ও সোদপুর—উভয় এলাকাতেই পুলিশি টহলদারি বাড়ানো হয়েছে। ব্যাটারি কারখানার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওই সাত শ্রমিককে কাজে নেওয়া হবে না।