নিউজ ডেস্ক: ক্যালেন্ডারে চৈত্র মাস থাকলেও ভোরের দিকে হালকা ঠান্ডা আর বিকেলের আচমকা কালবৈশাখী—এই খামখেয়ালি আবহাওয়ায় নাজেহাল শহরবাসী। তাপমাত্রার এই ঘনঘন ওঠানামার জেরে কলকাতা ও জেলাগুলির ঘরে ঘরে এখন জ্বর, সর্দি, কাশি এবং গলা ব্যথার দাপট। বিশেষ করে শিশু ও প্রবীণরা এই ‘সিজন চেঞ্জ’-এর ভাইরাসে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। চিকিৎসকদের মতে, এই সময়ে একটু অসতর্ক হলেই অ্যাডিনো বা ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের কবলে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে।
কেন বাড়ছে অসুখ?
আবহাওয়াবিদদের পরিসংখ্যান বলছে, এবার মার্চের গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অন্তত ২-৩ ডিগ্রি কম ছিল। দিনের বেলা রোদ আর রাতে বা ভোরে বৃষ্টির জেরে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেড়েছে। এই স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধির জন্য আদর্শ। ফলে ‘ভাইরাল ফিভার’ দ্রুত এক শরীর থেকে অন্য শরীরে ছড়িয়ে পড়ছে।
সুস্থ থাকতে চিকিৎসকদের ৫ দফা পরামর্শ:
১. ঠান্ডা-গরম থেকে সাবধান: রোদ থেকে ফিরে সঙ্গে সঙ্গে এসি চালানো বা ফ্রিজের ঠান্ডা জল খাওয়া বন্ধ করতে হবে। ঘাম বসে গিয়েই সর্দি-কাশির সূত্রপাত হয়। ২. খাদ্যাভ্যাসে বদল: শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভিটামিন-সি যুক্ত ফল (লেবু, আমলকী) এবং টাটকা শাকসবজি বেশি করে খান। পর্যাপ্ত জল পান করা একান্ত প্রয়োজন। ৩. পোশাক নির্বাচন: ভোরে বা রাতের দিকে তাপমাত্রা কমছে, তাই পাতলা চাদর বা হালকা সুতির ফুলহাতা পোশাক ব্যবহার করুন। বিশেষ করে বাইক চালকদের ক্ষেত্রে বুকে ঠান্ডা হাওয়া লাগা আটকাতে হবে। ৪. ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা: বাইরে থেকে ফিরে হাত-মুখ সাবান দিয়ে ধোয়া বা স্যানিটাইজার ব্যবহার করা জরুরি। জনবহুল জায়গায় প্রয়োজনে মাস্ক ব্যবহার করুন, যাতে ড্রপলেটের মাধ্যমে সংক্রমণ না ছড়ায়। ৫. প্যারাসিটামল ও বিশ্রাম: জ্বর এলে নিজের ইচ্ছামতো অ্যান্টিবায়োটিক না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সাধারণ জ্বরে প্যারাসিটামল এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামই দ্রুত সুস্থ হওয়ার চাবিকাঠি।
কখন সতর্ক হবেন?
চিকিৎসকদের মতে, যদি জ্বর তিন দিনের বেশি থাকে, শ্বাসকষ্ট শুরু হয় বা কাশির সঙ্গে কফ বেরোয়, তবে দেরি না করে রক্ত পরীক্ষা করানো উচিত। বিশেষ করে যাঁদের ক্রনিক অ্যাজমা বা সিওপিডি (COPD)-র সমস্যা আছে, তাঁদের এই খামখেয়ালি আবহাওয়া থেকে বাড়তি সুরক্ষা নিতে হবে।
শহর জুড়ে এই ‘শীতল’ মার্চের আমেজ উপভোগ করলেও শরীরের দিকে নজর দেওয়া এখন সবথেকে জরুরি। মনে রাখবেন, প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই শ্রেয়।