নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের নির্বাচনী আবহে একদিকে যখন ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া নিয়ে আইনি লড়াই তুঙ্গে, ঠিক তখনই কর্তব্য গাফিলতির অভিযোগে কড়া পদক্ষেপ নিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। নদীয়ার হাঁসখালি ব্লকের বিডিও সায়ন্তন ভট্টাচার্যকে সাসপেন্ড করল কমিশন। ভোটকর্মীদের প্রশিক্ষণ চলাকালীন এক শিক্ষককে মারধরের ঘটনায় বিডিও-র প্রশাসনিক ব্যর্থতাকেই দায়ী করা হয়েছে। অন্যদিকে, বিচারাধীন ভোটারদের ভাগ্য নির্ধারণে আজ, বুধবার সুপ্রিম কোর্টের নজরকাড়া শুনানি হতে চলেছে।
সুপ্রিম কোর্টে ‘ফ্রিজ’ জট:
আইনজীবী মহলের নজর এখন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চের দিকে। প্রথম দফার ভোটের জন্য তালিকা ‘ফ্রিজ’ বা চূড়ান্ত করার সময়সীমা ৬ এপ্রিল। কিন্তু এখনও প্রায় ২০ শতাংশ বিচারাধীন ভোটারের নথিপত্র যাচাই বাকি।
-
দাবি: বৈধ নথি থাকা সত্ত্বেও বহু নাম বাদ পড়ার অভিযোগ উঠেছে। এই অবস্থায় তালিকা চূড়ান্ত করার সময়সীমা বাড়ানো হবে কি না, আজ তার ফয়সালা হতে পারে।
-
ট্রাইবুনাল জট: বাদ পড়া ভোটাররা ট্রাইবুনালে আবেদন করতে পারলেও, এখনও ট্রাইবুনাল কাজই শুরু করতে পারেনি। বেহালার এসপি মুখার্জি ইনস্টিটিউশনে ১৯ জন বিচারপতির বসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের সিইও মনোজ আগরওয়াল।
হাঁসখালির বিডিও সাসপেন্ড:
ভোটের মুখে প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় ধাক্কা। রানাঘাটের একটি স্কুলে ভোট প্রশিক্ষণ চলাকালীন এক শিক্ষককে মারধরের ঘটনায় উত্তাল হয়েছিল এলাকা। অভিযোগ ছিল, বিডিও সায়ন্তন ভট্টাচার্য সেই পরিস্থিতি সামলাতে এবং প্রয়োজনীয় প্রোটোকল বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন।
-
কড়া পদক্ষেপ: শোকজের সন্তোষজনক উত্তর না মেলায় এবং দায়িত্ব পালনে চরম গাফিলতির অভিযোগে কমিশন তাঁকে সাসপেন্ড করেছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
হাইকোর্টে ধাক্কা তৃণমূলের:
রাজ্য প্রশাসনে কমিশনের ঢালাও রদবদলের প্রতিবাদে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের বেঞ্চ সেই মামলা খারিজ করে দিয়েছে। আদালত জানিয়েছে, নির্বাচনের সময় প্রশাসনের রদবদলের বিষয়ে কমিশনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।
ভোটের দিনক্ষণ এগিয়ে এলেও ভোটার তালিকা এবং প্রশাসনিক রদবদল নিয়ে এই টানাপোড়েন জনমানসে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। সুপ্রিম কোর্টের আজকের শুনানির পর স্পষ্ট হবে, শেষ পর্যন্ত কতজন ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।