নিউজ ডেস্ক: রাতের শহরে ফের নারী নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন। অফিস থেকে টোটো করে বাড়ি ফেরার পথে এক তরুণী স্বাস্থ্যকর্মীকে শ্লীলতাহানি ও মারধর করার অভিযোগে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল হাওড়ার চ্যাটার্জিহাট থানার কাসুন্দিয়া রোড। অভিযুক্ত যুবককে হাতেনাতে ধরে নর্দমায় ফেলে গণপিটুনি দিল উত্তেজিত জনতা। সোমবার রাতের এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চ্যাটার্জিহাট থানার বিশাল পুলিশ বাহিনীকে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে হয়।

আক্রান্ত তরুণী মন্দিরতলার একটি বেসরকারি হাসপাতালের কর্মী এবং চারাবাগান এলাকার বাসিন্দা। সোমবার রাত সাড়ে আটটা নাগাদ তিনি মন্দিরতলা থেকে টোটো ধরে বাড়ি ফিরছিলেন। প্রথমদিকে টোটোতে অন্য যাত্রী থাকলেও, মাঝপথে তাঁরা নেমে যাওয়ার পর তরুণী ও অভিযুক্ত যুবকটি একা হয়ে পড়েন।

চলন্ত টোটোয় নিগ্রহ ও প্রতিবাদ:

তরুণীর অভিযোগ, তিনি মোবাইলে ব্যস্ত থাকার সুযোগ নিয়ে উল্টোদিকে বসে থাকা ওই যুবক আচমকা তাঁর শ্লীলতাহানি করে। তিনি চিৎকার করে প্রতিবাদ করলে অভিযুক্ত যুবক টোটোর মধ্যেই তাঁকে এলোপাথাড়ি মারধর শুরু করে। তরুণীর আর্তচিৎকার শুনে স্থানীয় দোকানদার ও পথচারীরা টোটোটি থামিয়ে দেন।

গণপিটুনি ও পুলিশি উদ্ধার:

অভিযুক্তকে টোটো থেকে নামিয়ে হিড়হিড় করে টেনে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক মারধর শুরু করে উত্তেজিত জনতা। গণপিটুনির এক পর্যায়ে তাকে রাস্তার ধারের নর্দমায় ফেলে দিয়েও প্রহার করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে খবর। খবর পেয়ে চ্যাটার্জিহাট থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তাক্ত ও আহত অবস্থায় অভিযুক্তকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর শ্লীলতাহানি ও মারধরের সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আইন হাতে তুলে নেওয়া নিয়ে সতর্কবার্তা:

হাওড়া সিটি পুলিশের এক পদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে একইসঙ্গে অভিযুক্তকে আইন হাতে তুলে নিয়ে মারধর করার ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা হয়েছে। কাসুন্দিয়া রোড ও চারাবাগান এলাকায় পুলিশি টহলদারি বাড়ানো হয়েছে। কয়েক মাস আগে এই এলাকাতেই এক স্কুলছাত্রীকে হেনস্থার ঘটনা ঘটেছিল, সেই স্মৃতি টাটকা থাকতেই ফের এমন অভিযোগে বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক দানা বেঁধেছে।

Share on Social Media