নিউজ ডেস্ক: মালদহ জেলা মানেই এককালে ছিল কংগ্রেসের দুর্ভেদ্য দুর্গ। আর সেই দুর্গের হৃদপিণ্ড ইংলিশবাজার কেন্দ্র থেকে শান্তিগোপাল সেন, গৌতম চক্রবর্তী কিংবা কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরীর মতো দাপুটে নেতারা বিধানসভায় প্রতিনিধিত্ব করেছেন। কিন্তু সময়ের নিয়মে সেই ছবি আজ ধূসর। একসময়ের ‘প্রিমিয়াম’ এই কেন্দ্রে এখন কংগ্রেসের অবস্থা কার্যত ‘অণুবীক্ষণ যন্ত্র’ দিয়ে খোঁজার মতো বলে কটাক্ষ ছুড়ে দিচ্ছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে ইংলিশবাজারে কংগ্রেস কি আদেও প্রাসঙ্গিক থাকবে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
দলবদলের চোরাস্রোত ও ভাঙন:
ইংলিশবাজারে কংগ্রেসের শেষ সাফল্য এসেছিল ২০১১ সালে, তৃণমূলের সঙ্গে জোট বেঁধে। তৎকালীন বিধায়ক কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী দলত্যাগ করে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর থেকেই মালদহ সদরে কংগ্রেসের ঘর ভাঙতে শুরু করে। একের পর এক হেভিওয়েট নেতা ঘাসফুল শিবিরে নাম লেখানোয় ইংলিশবাজারে ‘হাত’ চিহ্ন এখন অনেকটাই ছন্নছাড়া। এমনকি বর্তমান তৃণমূল প্রার্থী আশিস কুণ্ডুও একসময় কংগ্রেসের প্রথম সারির নেতা ছিলেন।
বিরোধীদের ত্রিমুখী আক্রমণ:
ইংলিশবাজারের নির্বাচনী লড়াইয়ে কংগ্রেসকে ‘সাইনবোর্ড’ বলে দাগিয়ে দিচ্ছে বিজেপি, তৃণমূল ও বাম—তিন পক্ষই।
-
তৃণমূলের দাবি: প্রার্থী আশিস কুণ্ডুর মতে, সাঁইবাড়ি কাণ্ডের অভিযুক্ত সিপিএমের হাত ধরার পর থেকেই মানুষ কংগ্রেসকে ত্যাগ করেছে।
-
বিজেপির তোপ: জেলা সাধারণ সম্পাদক নীলাঞ্জন দাসের দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে কুৎসা করাই এখন কংগ্রেসের একমাত্র কাজ, তাই সাধারণ মানুষ এই দল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।
-
বামফ্রন্টের বার্তা: সিপিএম প্রার্থী অম্বর মিত্রের গলায় আবার ঝরে পড়ল অভিমান। তিনি মনে করেন, বিগত দিনে বামেদের আত্মত্যাগের ফলে কংগ্রেস অক্সিজেন পেয়েছিল। এখন কংগ্রেস সঙ্গ ত্যাগ করায় তিনি হাত শিবিরের কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় বামফ্রন্টকে ভোট দেওয়ার।
‘নেতা নেই, ভালোবাসা আছে’: কংগ্রেসের পালটা যুক্তি
বিরোধীদের সব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে কংগ্রেসের জেলা কার্যনির্বাহী সদস্য মান্তু ঘোষ দাবি করেছেন, সরকারি ক্ষমতা ও পুলিশকে ব্যবহার করে দল ভাঙানো হয়েছে ঠিকই, কিন্তু মানুষের মন থেকে কংগ্রেসকে মোছা যায়নি। তাঁর বক্তব্য, “হয়তো আমাদের বিশাল দলীয় কার্যালয় বা হাজার হাজার কর্মী এখন পথে নেই, কিন্তু ইংলিশবাজারের মানুষের হৃদয়ে আজও শতাব্দী প্রাচীন এই দলের প্রতি স্বতঃস্ফূর্ত ভালোবাসা রয়েছে। আমাদের সাইনবোর্ড ভাবলে বিরোধীরা চরম বোকামি করবে।”
ভোটের লড়াইয়ে ইংলিশবাজারের এই ‘আবেগ’ বনাম ‘সংগঠনের অভাব’—শেষ পর্যন্ত কার পাল্লা ভারী হয়, সেটাই এখন দেখার। মালদহের রাজনীতিতে কংগ্রেস কি ফের স্বমহিমায় ফিরবে, না কি বিরোধীদের দাবিই সত্যি হবে, তার উত্তর দেবে ইভিএম।