নিউজ ডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই ফের বাংলায় সক্রিয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। বৃহস্পতিবার সাতসকালে দক্ষিণ কলকাতার একাধিক জায়গায় একযোগে তল্লাশি অভিযানে নামলেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা। সেই তালিকায় সবথেকে চর্চিত নাম কসবা এলাকার প্রভাবশালী ব্যবসায়ী বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে ‘সোনা পাপ্পু’। তোলাবাজি, সিন্ডিকেট রাজ এবং প্রভাবশালী যোগের অভিযোগে তাঁর ফার্ন রোডের বাড়িসহ বালিগঞ্জের এক সংস্থার অফিসেও হানা দিয়েছে ইডি।
সকাল ৭টা বাজতে না বাজতেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে নিয়ে সোনা পাপ্পুর বাড়িতে পৌঁছে যান ইডি আধিকারিকরা। সূত্রের খবর, বিশ্বজিতের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই চারটি থেকে পাঁচটি এফআইআর (FIR) দায়ের হয়েছে। তোলাবাজি ও হুমকির একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে গত কয়েকদিন ধরেই তলে তলে অনুসন্ধান চালাচ্ছিলেন গোয়েন্দারা।
সিন্ডিকেট রাজ ও ‘প্রভাবশালী’ যোগ:
ইডির নজরে এখন দক্ষিণ কলকাতার নির্মাণ শিল্পের অন্ধকার দিক। গোয়েন্দা সূত্রে চাঞ্চল্যকর কিছু দাবি উঠে আসছে:
-
কোটি কোটি টাকার তোলা: অভিযোগ, কসবা ও বালিগঞ্জ এলাকায় বিভিন্ন প্রোমোটার ও নির্মাণ সংস্থার কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা তুলতেন সোনা পাপ্পু।
-
টাকা পাচারের সেতুবন্ধন: ইডির অনুমান, সংগৃহীত এই বিপুল পরিমাণ টাকা সোনা পাপ্পুর মাধ্যমেই পৌঁছে যেত রাজ্য় রাজনীতির বেশ কিছু ‘প্রভাবশালী’ ব্যক্তিত্বের কাছে।
-
দেবাশিস কুমার যোগ: রাজনৈতিক মহলের গুঞ্জন, সোনা পাপ্পু দক্ষিণ কলকাতা তৃণমূল সভাপতি তথা রাসবিহারীর প্রার্থী দেবাশিস কুমারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। কাকতালীয়ভাবে, গত সোমবারই দেবাশিসবাবুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছিল ইডি। তার ঠিক দু’দিন পরেই এই অভিযান যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।
বালিগঞ্জের ‘সান এন্টারপ্রাইজ’ ও গোলপার্ক অশান্তি:
সোনা পাপ্পুর বাড়ি ছাড়াও বালিগঞ্জের ‘সান এন্টারপ্রাইজ’ নামক এক সংস্থার অফিসেও ম্যারাথন তল্লাশি চালাচ্ছে ইডি। আর্থিক তছরুপের মামলায় এই সংস্থার কী ভূমিকা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগে রবীন্দ্র সরোবর ও গোলপার্ক এলাকায় দুই গোষ্ঠীর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষেও সোনা পাপ্পুর নাম জড়িয়েছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, তাঁর দলবলই এলাকায় অশান্তি পাকিয়েছিল। যদিও সোনা পাপ্পু সেই সময় সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।
ভোটের মুখে ইডির এই সাঁড়াসি অভিযানকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে দাগিয়ে দিচ্ছে শাসক দল। অন্যদিকে, বিরোধীদের দাবি—এতদিন পুলিশ যাকে ছুঁতে সাহস পায়নি, ইডির হানায় এবার সেই সিন্ডিকেট রাজের কঙ্কাল বেরিয়ে আসবে। আপাতত সোনা পাপ্পুর বাড়িতে নথিপত্র ও ডিজিটাল ডিভাইসের তল্লাশি জারি রয়েছে।