নিউজ ডেস্ক: আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে লিফট ছিঁড়ে দুর্ঘটনার ঘটনায় আইনি লড়াইয়ে নয়া মোড়। বুধবার শিয়ালদহ আদালত এই মামলায় ধৃত দুই নিরাপত্তা রক্ষীকে শর্তসাপেক্ষ জামিন দিলেও, তিন লিফটম্যানের স্বস্তি মিলল না। তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্ত তিন লিফটম্যানকে আগামী ৩ এপ্রিল পর্যন্ত পুনরায় পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। হাসপাতালের অন্দরে সুরক্ষার গাফিলতি নিয়ে এই মামলা এখন রাজ্যজুড়ে চর্চার বিষয়।
আদালতে সওয়াল-জবাব:
এদিন মামলার শুনানিতে সরকারি ও বিবাদী পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে উত্তপ্ত সওয়াল-জবাব চলে:
-
সরকারি কৌঁসুলির দাবি: মুখ্য সরকারি কৌঁসুলি স্নেহাংশু ঘোষ লিফটম্যানদের জামিনের কড়া বিরোধিতা করেন। তিনি আদালতে জানান, অভিযুক্তদের চরম গাফিলতিই এই অপ্রীতিকর ঘটনার মূল কারণ। তদন্তের গভীরে পৌঁছাতে তাঁদের আরও জেরা করা প্রয়োজন।
-
বিবাদী পক্ষের যুক্তি: লিফটম্যানদের আইনজীবী সপ্তর্ষি ঘোষ পাল্টা দাবি করেন, তদন্তে নতুন কোনও অগ্রগতি নেই। পুলিশ একই তথ্য ঘুরিয়ে ফিরিয়ে পেশ করছে। তাই অভিযুক্তদের জামিন দেওয়া হোক।
-
নিরাপত্তা রক্ষীদের মুক্তি: অন্য দিকে, দুই নিরাপত্তা রক্ষীর আইনজীবীরা দাবি করেন, তাঁদের মক্কেলদের অহেতুক এই মামলায় জড়ানো হয়েছে। তাঁরা তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করবেন।
বিচারক মামলার কেস ডায়েরি (Case Diary) খতিয়ে দেখার পর দুই নিরাপত্তা রক্ষীর জামিন মঞ্জুর করলেও লিফটম্যানদের পুলিশি হেফাজতের মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।
আর জি করের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন:
এই লিফট-কাণ্ডের পর থেকেই আর জি করের মতো ব্যস্ত হাসপাতালের পরিকাঠামো ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে লিফটম্যানদের ডিউটি রোস্টার এবং জরুরি ভিত্তিতে যান্ত্রিক গোলযোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখছেন টালা থানার তদন্তকারীরা। ৩ এপ্রিল পর্যন্ত লিফটম্যানদের জেরা করে ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনও যান্ত্রিক ত্রুটি বা অন্তর্ঘাত ছিল কি না, তা স্পষ্ট করার চেষ্টা করবে পুলিশ।
হাসপাতাল চত্বরে আপাতত থমথমে পরিবেশ। প্রশাসনিক স্তরেও লিফট রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার ভূমিকা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে।