নিউজ ডেস্ক: বাংলার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে বুধবার এক চাঞ্চল্যকর মোড় নিল সুপ্রিম কোর্ট। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী হিংসার প্রসঙ্গ টেনে শীর্ষ আদালতে সরব হলেন মামলাকারীর আইনজীবী। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে এই মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই-কে (CBI) অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দিল বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ। ভোটের মুখে সর্বোচ্চ আদালতের এই সক্রিয়তা রাজ্য সরকারের জন্য যথেষ্ট অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
আদালতে সওয়াল ও সিবিআই যোগ:
বুধবার শুনানির শুরুতে বর্ষীয়ান আইনজীবী ভি গিরি ২০২১-এর ভোট পরবর্তী হিংসার খতিয়ান তুলে ধরেন। রাজ্যের ডিজিপি-র রিপোর্টের উল্লেখ করে তিনি জানান, বহু অভিযুক্ত এখনও জামিনে মুক্ত এবং এলাকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন।
-
বিচারপতির পর্যবেক্ষণ: বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী নির্দেশ দেন, “এই মামলায় আপনারা সিবিআই-কেও যুক্ত করুন। এর আগে কলকাতা হাইকোর্ট এই ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব সিবিআই-কে দিয়েছিল। তারা এ পর্যন্ত কী কাজ করেছে, সেটাও আদালত জানতে চায়।”
-
প্রধান বিচারপতির বক্তব্য: প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তও হাইকোর্টের নির্দেশের প্রসঙ্গ টেনে মামলাটি গ্রহণ করার কথা জানান। যদিও রাজ্য সরকারের আইনজীবীরা এই আর্জির বিরোধিতা করেছিলেন, কিন্তু আদালত তা খারিজ করে দেয়।
কমিশনের রিপোর্ট ও পরিসংখ্যানের লড়াই:
সম্প্রতি জাতীয় নির্বাচন কমিশনও নবান্নের কাছে ২০২১-এর হিংসা নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছিল। সেই সময় দায়িত্বে থাকা কোন কোন পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা হয়েছে, তার তালিকা চেয়েছিল কমিশন। আদালত সূত্রে যে পরিসংখ্যান উঠে এসেছে তা রীতিমতো চমকে দেওয়ার মতো:
-
মোট অভিযোগ: ১,৯৩৪টি।
-
মোট অভিযুক্ত: ৯,৩০৪ জন।
-
গ্রেপ্তার: মাত্র ১,৩৪৫ জন।
ভোটের আবহে নয়া সমীকরণ:
আইনজীবী মহলের একাংশ মনে করছেন, বর্তমান বিধানসভা নির্বাচনের মুখে ২০২১-এর হিংসার মামলা সুপ্রিম কোর্টে পুনরুজ্জীবিত হওয়া অত্যন্ত ইঙ্গিতপূর্ণ। সিবিআই এই মামলায় যুক্ত হওয়ায় তদন্তের গতি যেমন বাড়বে, তেমনই তৎকালীন পুলিশ আধিকারিকদের ভূমিকাও আতশকাঁচের তলায় চলে আসবে। বিশেষ করে এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় নাম বাদ যাওয়া নিয়ে যখন রাজ্যজুড়ে বিক্ষোভ চলছে, তখন এই আইনি লড়াই নতুন মাত্রা যোগ করল।
শীর্ষ আদালতের রেজিস্ট্রির তরফে জানানো হয়েছে, খুব শীঘ্রই এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিনক্ষণ ঘোষণা করা হবে। সিবিআই-এর পেশ করা রিপোর্টের ওপরই নির্ভর করবে বহু অভিযুক্ত ও প্রশাসনিক আধিকারিকের ভবিষ্যৎ।