নিউজ ডেস্ক: অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক পরিণতির ক্ষত এখনও টাটকা। তার মধ্যেই ফের উত্তাল সমুদ্র কেড়ে নিল দুটি প্রাণ। এবার অকুস্থল পূর্ব মেদিনীপুরের তাজপুর। বুধবার সন্ধ্যায় সমুদ্র সৈকত থেকে উদ্ধার করা হল উত্তর ২৪ পরগনার সোদপুরের দুই চিকিৎসকের নিথর দেহ। একের পর এক এমন দুর্ঘটনায় পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল।
পুলিশ সূত্রে খবর, বুধবার সন্ধ্যায় তাজপুরে ‘বিশ্ব বাংলা’ গেটের কাছে সমুদ্রে দুটি দেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে মন্দারমণি কোস্টাল থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ দুটি উদ্ধার করে বালিসাই হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করেন।
সোদপুরের দুই চিকিৎসক:
মৃতদের পরিচয় মিলেছে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতরা হলেন কুন্তল চক্রবর্তী এবং শৈলজা ভরদ্বাজ। দু’জনেরই বয়স ৩৫ বছরের মধ্যে এবং তাঁরা পেশায় চিকিৎসক ছিলেন। তাঁদের বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার সোদপুরের ঘোলা এলাকায়। শখ করে সমুদ্র ভ্রমণে এসে যে এমন পরিণতি হবে, তা ভাবতেও পারছেন না পরিজনরা। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গ্রামীণ) অতীশ বিশ্বাস জানিয়েছেন, দেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ ও সময় স্পষ্ট হবে।
তালসারি থেকে দিঘা—বিপদের ছায়া সবর্ত্র:
গত রবিবারই ওড়িশার তালসারি সৈকতে শ্যুটিং চলাকালীন জলে ডুবে মৃত্যু হয়েছিল টলিউড অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সেই রহস্যের কিনারা হওয়ার আগেই তাজপুরের এই ঘটনা পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। অন্যদিকে, বুধবার সকালে দিঘার ‘ক্ষণিকা’ ঘাটে স্নান করতে নেমে ঢেউয়ের তোড়ে ভেসে যাচ্ছিলেন একই পরিবারের দুই পর্যটক। তবে নুলিয়াদের তৎপরতায় প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন বছর আটচল্লিশের সুনীল মুখোপাধ্যায় ও তাঁর নাতনি সোয়ানা। তাঁদের বর্তমানে দিঘা স্টেট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে।
অসতর্কতাই কি কাল হচ্ছে?
বারবার নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও কেন এই দুর্ঘটনা? পুলিশ আধিকারিকদের মতে, অনেক পর্যটকই মদ্যপ অবস্থায় সমুদ্রে স্নান করতে নামছেন। নুলিয়াদের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে গভীর জলে চলে যাওয়ার প্রবণতাই মৃত্যুর প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তাজপুর ও মন্দারমণি এলাকা অপেক্ষাকৃত শান্ত হলেও চোরা স্রোতের বিপদ সবসময় থাকে। এই দুর্ঘটনার পর দিঘা, মন্দারমণি ও তাজপুর উপকূল জুড়ে নজরদারি আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে জেলা পুলিশ। মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত নুলিয়া ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী।