নিউজ ডেস্ক: মাটির তলা দিয়ে জলের পাইপ লাইনের কাজ চলছিল। কিন্তু জেসিবি দিয়ে মাটি খুঁড়তেই হঠাৎ বেরিয়ে এল মানুষের হাড়গোড়! আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই বুধবার রণক্ষেত্রের চেহারা নিল বীরভূমের সিউড়ির কুখুডিহি এলাকা। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে উন্মত্ত জনতার হাতে আক্রান্ত হলেন খোদ সিউড়ি থানার আইসি শৈলেন্দ্র উপাধ্যায়। ইটের ঘায়ে তাঁর মাথা ও কান ফেটে রক্তারক্তি কাণ্ড ঘটে। গুরুতর জখম অবস্থায় তিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ঘটনার নেপথ্যে:
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত কুখুডিহি এলাকায় এদিন পানীয় জলের পাইপ বসানোর কাজ করছিলেন এক ঠিকাদার। কাজ চলাকালীন একটি কবরস্থানের পাশের জমিতে মাটি খোঁড়াখুঁড়ি শুরু হতেই পুরনো কিছু মৃতদেহের হাড় বেরিয়ে আসে। এই দৃশ্য দেখেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগ, ক্ষুব্ধ জনতা প্রথমে জেসিবি চালককে বেধড়ক মারধর শুরু করে।
রণক্ষেত্র কুখুডিহি, আক্রান্ত আইসি:
খবর পেয়েই বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান সিউড়ি থানার আইসি শৈলেন্দ্র উপাধ্যায়। তিনি উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং ঘেরাও হয়ে থাকা চালককে উদ্ধার করতে যান। তখনই পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। অভিযোগ, আইসি-র গাড়ি লক্ষ্য করে ভাঙচুর চালায় গ্রামবাসীদের একাংশ। অন্ধকার থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি ইটবৃষ্টি শুরু হয়। একটি বড় ইটের টুকরো এসে সরাসরি আইসি শৈলেন্দ্র উপাধ্যায়ের কানে ও মাথায় লাগে। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনায় আরও তিন পুলিশ কর্মী আহত হয়েছেন।
পুলিশি অভিযান ও আটক ২০:
ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই পৌঁছান জেলা পুলিশ সুপার সূর্য প্রসাদ যাদব। মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয়। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এখনও পর্যন্ত ২০ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
বর্তমানে কুখুডিহির নতুনপল্লি ও সংলগ্ন এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। পুনরায় অশান্তি এড়াতে কেন্দ্রীয় বাহিনী রুট মার্চ করছে। জেলা পুলিশ সুপারের দাবি, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এলাকার ওপর কড়া নজরদারি রাখা হচ্ছে এবং দোষীদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে।