নিউজ ডেস্ক: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের মনোনয়ন পর্ব ঘিরে বৃহস্পতিবার নজিরবিহীন দৃশ্যের সাক্ষী থাকল দক্ষিণ দিনাজপুরের বুনিয়াদপুর শহর। হরিরামপুর ও কুশমণ্ডির বিজেপি প্রার্থীদের মনোনয়ন পেশের মিছিলে হঠাৎই উদয় হল দুটি পেল্লায় হলুদ রঙের বুলডোজার! উত্তরপ্রদেশের পরিচিত ‘বুলডোজার রাজনীতি’ এবার বাংলার গঙ্গারামপুরে আছড়ে পড়ায় শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। একদিকে শঙ্খধ্বনি আর উলুধ্বনি, অন্যদিকে ‘জয় বাংলা’ বনাম ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানে বৃহস্পতিবার দিনভর তপ্ত থাকল ৫১২ নম্বর জাতীয় সড়ক।
মিছিলে ‘বুলডোজার’ কেন? সুকান্তর হুঁশিয়ারি
এদিন হরিরামপুরের বিজেপি প্রার্থী দেবব্রত মজুমদার এবং কুশমণ্ডির প্রার্থী তাপস চন্দ্র রায়ের সমর্থনে বুনিয়াদপুর সরাইহাট থেকে বিডিও অফিস মোড় পর্যন্ত বিশাল মিছিলে নেতৃত্ব দেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। মিছিলের মাঝেই দুটি বুলডোজারে চড়ে উল্লাস করতে দেখা যায় বিজেপি কর্মীদের। গঙ্গারামপুর মহকুমা শাসকের দপ্তরে মনোনয়ন জমা দেওয়ার আগে সুকান্তবাবু স্পষ্ট জানান, “হরিরামপুরে তৃণমূলের দুষ্টু প্রার্থী রয়েছে, তাই সেখানে পরিস্থিতি সামাল দিতেই এই বুলডোজার আনা হয়েছে।” গেরুয়া শিবিরের এই অভিনব ‘প্রদর্শন’ দেখে অবাক হয়েছেন পথচলতি সাধারণ মানুষও।
তৃণমূলের তোপ: ‘দমনপীড়নের ইঙ্গিত’
বিজেপির এই বুলডোজার মডেলকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছে শাসকদল। হরিরামপুরের তৃণমূল প্রার্থী তথা পোড়খাওয়া নেতা বিপ্লব মিত্রের অভিযোগ, “বিজেপি আসলে উত্তরপ্রদেশের দমনপীড়নের মডেল বাংলায় দেখাতে চাইছে। বুলডোজার দেখিয়ে মানুষকে ভয় পাইয়ে লাভ নেই, মানুষ ইভিএম-এ এর যোগ্য জবাব দেবে।” তৃণমূলের দাবি, ক্ষমতায় এলে বিজেপি যে সাধারণ মানুষের ওপর এভাবেই বুলডোজার চালাবে, এই মিছিল তারই আগাম সংকেত।
স্লোগান যুদ্ধ ও রণক্ষেত্র বুনিয়াদপুর:
এদিন দুই হেভিওয়েট পক্ষের মনোনয়নকে কেন্দ্র করে বুনিয়াদপুর সুকান্ত ভবন এলাকায় উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। তৃণমূলের জমায়েতের পাশ দিয়ে যখন বিজেপির মিছিল যাচ্ছিল, তখন সুকান্ত মজুমদারকে লক্ষ্য করে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে শুরু করেন জোড়াফুল শিবিরের কর্মীরা। পাল্টা ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দেয় গেরুয়া শিবির। পরিস্থিতি সামাল দিতে মাঝপথে দেওয়াল হয়ে দাঁড়ায় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।
বিপ্লব মিত্র এদিন হুডখোলা গাড়িতে চড়ে বিশাল কর্মী-সমর্থক নিয়ে শক্তি প্রদর্শন করেন। ঢাক ও শঙ্খের আওয়াজে গোটা এলাকা কার্যত নির্বাচনী উৎসবে মেতে ওঠে। তবে গঙ্গারামপুর ও বুনিয়াদপুরের বাতাসে এখন শুধুই ‘বুলডোজার’ বিতর্কের গন্ধ।