নিউজ ডেস্ক: নতুন জীবনের স্বপ্ন ছিল দু’চোখে। হাতে ছিল পেশাগত সাফল্যের লম্বা আকাশ। শাশুড়ি-শ্বশুরমশাইয়ের আদরের বউমার জন্য মুর্শিদাবাদে নতুন বাড়িও দেখা সারা হয়েছিল। কিন্তু এক ঝটিকা সফরই যে সব স্বপ্ন তছনছ করে দেবে, তা কল্পনাও করতে পারেনি সোদপুরের চক্রবর্তী পরিবার। তাজপুরের উত্তাল সমুদ্র কেড়ে নিল দুই প্রতিভাবান চিকিৎসকের প্রাণ। বৃহস্পতিবার সকালে সোদপুরের বিবেকানন্দ পার্কে চিকিৎসক দম্পতি কুন্তল চক্রবর্তী ও শৈলজা ভরদ্বাজের নিথর দেহ পৌঁছতেই কান্নায় ভেঙে পড়ল গোটা এলাকা।
ঝটিকা সফর ও শেষ ফোন:
পেশায় শল্য চিকিৎসক কুন্তল চক্রবর্তী (৩৬) কলকাতার একাধিক বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস এবং আর জি কর থেকে এমএস (MS) করা কুন্তল ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে তাঁর বিয়ে হয় শৈলজা ভরদ্বাজের সঙ্গে। শৈলজাদেবীও ছিলেন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ। সম্প্রতি তিনি মুর্শিদাবাদের ডোমকল মহকুমা হাসপাতালে যোগ দিয়েছিলেন।
-
বুধবারের সফর: পাকাপাকিভাবে মুর্শিদাবাদে চলে যাওয়ার আগে বুধবার দুপুরে নিজেদের গাড়িতে চালককে সঙ্গে নিয়ে তাজপুর বেড়াতে গিয়েছিলেন দম্পতি।
-
শেষ কথা: সন্ধ্যায় তাজপুর পৌঁছেই ফোনে মায়ের সঙ্গে কথা বলেছিলেন শৈলজা। জানিয়েছিলেন, পরের দিন সকালেই তাঁরা ফিরে আসবেন।
মর্মান্তিক সেই রাত:
কিন্তু সকাল আর এল না। রাত ১০টা নাগাদ দম্পতির গাড়ির চালক ফোন করে বাড়িতে দুঃসংবাদটি জানান। সমুদ্রের জলে তলিয়ে মৃত্যু হয়েছে দুজনেরই। খবর পেয়েই ঝড়ের গতিতে তাজপুর পৌঁছান কুন্তলবাবুর বৃদ্ধ বাবা বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী ও আত্মীয়রা। শৈলজার বাপের বাড়ি পাটনা থেকেও পরিজনেরা ঘোলার বাড়িতে ভিড় জমান। মৃত চিকিৎসকের মামা তথা প্রাক্তন রাজ্যসভা সাংসদ রাকেশ সিনহা শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েন।
হাহাকার সোদপুর জুড়ে:
বাড়ির একমাত্র ছেলে ও আদরের বউমাকে হারিয়ে মা শঙ্করীদেবী এখন বাক্যহারা। পিসি অঞ্জলি চট্টোপাধ্যায় থেকে শুরু করে মামী শ্রাবন্তী সাহা— সকলের মুখেই এক কথা, “দুটো জীবনই তো ছিল ডাক্তারদের, ছুটি পেত না খুব একটা। একটু ফাঁকা পেয়ে বেড়াতে গিয়ে এমনটা হবে কেউ ভাবতে পারেনি।”
-
অপূর্ণ স্বপ্ন: পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, শৈলজার মুর্শিদাবাদের কর্মস্থলের কাছেই একটি নতুন বাড়ি দেখে রেখেছিলেন তাঁর শ্বশুরমশাই। বউমার যাতে ডিউটি করতে সুবিধে হয়, সেই কারণেই এই পরিকল্পনা।
-
পাড়া-প্রতিবেশীর শোক: বিবেকানন্দ পার্কের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারাও এই মেধাবী দম্পতির অকাল প্রয়াণে শোকাতুর।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, সমুদ্রে স্নান করতে নেমেই কোনও বড় ঢেউয়ের ধাক্কায় বা চোরা স্রোতে টাল সামলাতে না পেরে তাঁরা তলিয়ে গিয়েছেন। তবে ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছেন তদন্তকারীরা।