নিউজ ডেস্ক: মালদহের মোথাবাড়িতে ভোটার তালিকা সংশোধন ঘিরে তৈরি হওয়া রণক্ষেত্রের ঘটনায় অবশেষে জালে মূল পাণ্ডা। ‘বিচারাধীন’ তালিকা যাচাইয়ের কাজে নিযুক্ত সাত বিচারককে দীর্ঘ ৯ ঘণ্টা বন্দি করে রাখা এবং উত্তেজনায় উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে শুক্রবার সকালে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা হল আইনজীবী মোফাক্কেরুল ইসলামকে। উত্তর দিনাজপুরের ইটাহারের বাসিন্দা ওই আইনজীবী বেঙ্গালুরুতে চম্পট দেওয়ার ছক কষেছিলেন বলে খবর। তাঁর সঙ্গেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে সহযোগী ইউটিউবার আক্রামুল বাগানীকেও।
আকাশপথে পলায়নের চেষ্টা ও নাটকীয় গ্রেপ্তার:
বুধবারের সেই নজিরবিহীন তাণ্ডবের পর থেকেই পুলিশের আতশকাঁচের তলায় ছিলেন মোফাক্কেরুল। জেলা পুলিশ ও সিআইডির গোয়েন্দারা জানতে পারেন, গ্রেপ্তার এড়াতে আকাশপথে ভিনরাজ্যে পাড়ি দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন তিনি। সেইমতো বাগডোগরা বিমানবন্দরে আগে থেকেই ওঁত পেতে ছিলেন তদন্তকারীরা। শুক্রবার সকালে বেঙ্গালুরুর বিমান ধরার আগেই তাঁকে পাকড়াও করা হয়।
ধরা পড়ার পর সমাজমাধ্যমে লাইভ করে মোফাক্কেরুল দাবি করেন, তিনি কোনও উস্কানি দেননি এবং বিক্ষোভের সঙ্গে তাঁর সরাসরি যোগ ছিল না। যদিও তদন্তকারীদের হাতে আসা একাধিক ভিডিও ফুটেজে দেখা গিয়েছে, গাড়ির মাথায় উঠে উত্তেজনামূলক বক্তৃতা দিচ্ছেন ওই আইনজীবী। কালিয়াচক ও মোথাবাড়ি থানায় তাঁর বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি মামলা রুজু হয়েছে। আজ, শনিবার তাঁকে নিজেদের হেপাজতে চেয়ে আদালতে আবেদন জানাবে এনআইএ (NIA)।
মালদহে এনআইএ-র তৎপরতা:
সুপ্রিম কোর্টের কড়া মনোভাবের পর নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে এই মামলার তদন্তভার নিয়েছে এনআইএ। শুক্রবার বিকেলেই এনআইএ-র আইজি সোনিয়া সিংয়ের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল মালদহে পৌঁছায়।
-
সরজমিনে তদন্ত: তদন্তকারীরা মোথাবাড়ির সেই এলাকা পরিদর্শন করেন যেখানে বিচারকদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল।
-
সাক্ষ্যগ্রহণ: শীঘ্রই সেই সাত জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে কথা বলবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
কে এই মোফাক্কেরুল ইসলাম?
তদন্তে মোফাক্কেরুলের রাজনৈতিক ও পেশাগত জীবনের একাধিক তথ্য উঠে এসেছে। এক সময় রায়গঞ্জ জেলা আদালতের আইনজীবী থাকলেও বর্তমানে তিনি কলকাতা হাইকোর্টে প্র্যাক্টিস করেন। তবে তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ার বিশেষ সুখকর নয়।
-
ভোটের ময়দানে ব্যর্থতা: ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে আসাদউদ্দিন ওয়াইসির দল এমআইএম-এর (MIM) প্রার্থী হয়ে ইটাহার থেকে লড়াই করেছিলেন তিনি।
-
নোটার থেকেও কম ভোট: সেবার মাত্র ৮৩১টি ভোট পেয়েছিলেন মোফাক্কেরুল, যা ওই কেন্দ্রে পড়া ‘নোটা’ (NOTA) ভোটের চেয়েও অনেক কম ছিল।
পুলিশের দাবি ও বর্তমান পরিস্থিতি:
এডিজি (উত্তরবঙ্গ) কে জয়রামন জানিয়েছেন, মোথাবাড়ির গোলমালের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার করা হয়েছে মোট ৩৫ জনকে। বিচারকদের উদ্ধারে দেরি হওয়ার প্রশ্নে পুলিশের গাফিলতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। জয়রামনের দাবি, পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল থাকায় অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ করতে হয়েছে।