নিউজ ডেস্ক: সল্টলেকের আইএ (IA) মার্কেটের ১৩ নম্বর ট্যাঙ্কের পাশের চায়ের দোকানটি এখন কেবল চা-বিস্কুটের ঠেক নয়, বরং এক রাজনৈতিক রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনের মতো সেখানে জমে ওঠে বাঙালির চিরন্তন ‘আড্ডা’। চিকিৎসক, ইঞ্জিনিয়ার থেকে অধ্যাপক— বিচিত্র পেশার মানুষ সেখানে জড়ো হন। কারও বয়স ৪৫, তো কারও ৭০। আর সেই আড্ডার বিষয়বস্তু যখনই রাজনীতির অলিন্দে পা রেখেছে, তখনই বেজে উঠেছে বিপত্তি। অভিযোগ, ‘সরকার-বিরোধী’ আলোচনার দায়ে স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলার সেই আড্ডার জায়গায় কালো প্লাস্টিক মুড়িয়ে কার্যত মুখ বন্ধের চেষ্টা চালিয়েছেন।
ঘটনাটি বিধাননগর পুরনিগমের ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের। কাউন্সিলার মীনু দাস চক্রবর্তীর কাছে খবর পৌঁছায় যে, আইএ মার্কেটের ওই নির্দিষ্ট চায়ের ঠেকে নিয়মিত তৃণমূল সরকারের সমালোচনা করা হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রের খবর, এর আগেও কয়েকবার প্রতিনিধি পাঠিয়ে ওই ‘আড্ডাবাজ’দের সতর্ক করেছিলেন তিনি। সম্প্রতি পরিস্থিতি চরম আকার নেয় যখন কাউন্সিলার নিজে সরাসরি ওই ব্যক্তিদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। এর পরেই রাগের বশে চায়ের দোকানের পাশের খালি অংশটি কালো প্লাস্টিক দিয়ে ঢেকে দেওয়ার ‘ফরমান’ জারি করা হয় বলে অভিযোগ। সাফ জানানো হয়েছে, তাঁর অনুমতি ছাড়া সেই প্লাস্টিক খোলা যাবে না।
এই ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। সৌপর্ণ অধিকারী নামে এক ব্যক্তি ফেসবুকে লিখেছেন, “নিজের মত প্রকাশ করলে তৃণমূলের সইবে কেন? পুরমাতারও সয়নি।” আড্ডার নিয়মিত সদস্য প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, যিনি পেশায় এক মেরিন ইঞ্জিনিয়ার, ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “আড্ডা বাঙালির সংস্কৃতির অঙ্গ। সেটা বন্ধ করার চেষ্টা মানে সংস্কৃতির ওপর আঘাত।” চিকিৎসক অনিরুদ্ধ গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রশ্ন, “এত ইনসিকিউরিটি কেন সরকারের?” ৬৬ বছর বয়সি সন্দীপ ঘোষের মতে, গণতান্ত্রিক অধিকার এভাবে হরণ করা আদতে প্রশাসনেরই দৈন্যতা প্রকাশ করে।
যদিও সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন কাউন্সিলার মীনু দাস চক্রবর্তী। তাঁর দাবি, “সেখানে বিজেপি কর্মীরা বসে মিটিং করে সাধারণ মানুষের অসুবিধা তৈরি করছিল। চায়ের দোকান ঢেকে দেবে না?” পরে অবশ্য তিনি সুর বদলে দাবি করেন, দোকানদার নিজেই দোকান বন্ধ রেখেছেন। তবে বিধাননগর পুরনিগমের মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তী এই প্রসঙ্গে ভারসাম্য বজায় রেখেই জানিয়েছেন, স্বাধীন ভারতে মানুষের নিজস্ব ভালোলাগা বা মতাদর্শ প্রকাশ করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে এবং তাতে কারও আপত্তি থাকা উচিত নয়। ভোটের মুখে সল্টলেকের এই ‘প্লাস্টিক-বিতর্ক’ এখন শহরবাসীর আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু।