নিউজ ডেস্ক: খাস কলকাতায় আন্তর্জাতিক মাদক চক্রের বড়সড় পর্দাফাঁস করল নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো (NCB)। শনিবার রাতে শহরের একবালপুর এলাকায় ঝটিকা অভিযান চালিয়ে উদ্ধার হল প্রায় ৫০ কোটি টাকার নিষিদ্ধ মাদক। এই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে এক মহিলা-সহ দু’জনকে। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন আন্তর্জাতিক মাদক কারবারি মুনিব খানের স্ত্রী শায়েস্তা খান এবং তাঁর সহযোগী রাসেল ডি’ক্রুজ।
স্বামীর অবর্তমানে ‘সাম্রাজ্য’ সামলাচ্ছিলেন স্ত্রী:
তদন্তে নেমে এনসিবি আধিকারিকদের হাতে এসেছে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য। ধৃত শায়েস্তা খানের স্বামী মুনিব খান একজন কুখ্যাত আন্তর্জাতিক মাদক মাফিয়া। কয়েকমাস আগেই হংকং পুলিশের হাতে ধরা পড়েছিল সে। বর্তমানে সে বিদেশের জেলেই বন্দি। গোয়েন্দাদের দাবি, স্বামীর অবর্তমানে গোটা মাদক সাম্রাজ্যের রাশ নিজের হাতে তুলে নিয়েছিলেন শায়েস্তা। একবালপুরকে ‘সেফ হাউস’ হিসেবে ব্যবহার করে তিনি তাঁর কারবার চালাচ্ছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে।
গোপন ডেরায় হানা ও বিপুল উদ্ধার:
এনসিবি সূত্রে খবর, বেশ কিছুদিন ধরেই তাঁদের কাছে খবর ছিল যে বিদেশ থেকে সমুদ্র বা আকাশপথে বিপুল পরিমাণ মাদকের একটি বড় কনসাইনমেন্ট কলকাতায় পৌঁছেছে। সেই সূত্র ধরেই একবালপুরের একটি বাড়িতে নজরদারি বাড়ান গোয়েন্দারা। শনিবার রাতে সুযোগ বুঝে ওই বাড়িতে হানা দেন কেন্দ্রীয় সংস্থার আধিকারিকরা। তল্লাশিতে উদ্ধার হয় উচ্চমানের নিষিদ্ধ মাদক, যার আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য প্রায় ৫০ কোটি টাকা। মাদক ছাড়াও উদ্ধার হয়েছে নগদ ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা।
আন্তর্জাতিক যোগের হদিস:
প্রাথমিকভাবে গোয়েন্দাদের ধারণা, এই চক্রের সঙ্গে আন্তঃদেশীয় পাচারকারী গোষ্ঠীগুলির গভীর যোগসূত্র রয়েছে। বিদেশ থেকে মাদক আনিয়ে তা কলকাতার বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল শায়েস্তা ও রাসেলের। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই চক্রের অন্য সদস্যদের হদিস পাওয়ার চেষ্টা করছেন এনসিবি আধিকারিকরা। পাচারের রুট এবং এই বিপুল পরিমাণ অর্থ কোথায় বিনিয়োগ করা হত, এখন তা-ই খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
শহরের বুকে এই বিশাল পরিমাণ মাদক উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে প্রশাসনিক মহলে। ভোটের মুখে মাদকের এই বাড়বাড়ন্ত রুখতে শহরজুড়ে নজরদারি আরও জোরদার করছে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি।