নিউজ ডেস্ক: বিধানসভা ভোটের মুখে খাস সল্টলেকের সেক্টর ফাইভের এক বহুতলে ‘বেআইনি’ কল সেন্টার চালিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার গুরুতর অভিযোগ উঠল। অভিযোগের তির সরাসরি বিজেপির দিকে। অভিযোগ, ওই কল সেন্টার থেকে এ রাজ্যের সাধারণ ভোটারদের ফোন করে আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর সংগ্রহ করা হচ্ছিল। এই ঘটনায় শুক্রবার সল্টলেকের ইলেকট্রনিক কমপ্লেক্স থানা এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। পুলিশ অভিযানে গেলেও শেষ পর্যন্ত ‘প্রভাবশালী’ মহলের চাপে এবং গেরুয়া শিবিরের বাধার মুখে তাদের খালি হাতেই ফিরে আসতে হয় বলে জানা গিয়েছে।
ইপি-জিপি ব্লকের ওই বহুতলটিতে গত কয়েকদিন ধরেই সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করছিলেন স্থানীয়রা। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বিধাননগর ইলেকট্রনিক কমপ্লেক্স থানার এসআই হামিদ মোল্লার নেতৃত্বে একটি দল সেখানে হানা দেয়। পুলিশ সূত্রে খবর, অফিসের ভিতরে গিয়ে দেখা যায় প্রায় ৩০-৩৫ জন যুবক-যুবতী ল্যাপটপ নিয়ে কাজ করছেন। পুলিশ তাঁদের নথিপত্র দেখাতে বললে তাঁরা কোনও বৈধ কাগজ দেখাতে পারেননি। উল্টে ওই কর্মীরা জানান, তাঁরা একটি নির্দিষ্ট সংস্থার অধীনে কাজ করছেন।
ঘটনার নাটকীয় মোড় ঘোরে যখন বঙ্গ বিজেপির এক শীর্ষ নেতা সপার্ষদ ওই বহুতলে উপস্থিত হন। তিনি দাবি করেন, ওই ঘরটি আসলে বিজেপির ‘পার্টি অফিস’। যদিও মূল দলীয় কার্যালয় সেখান থেকে মাত্র দেড় কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। পুলিশ তল্লাশি চালাতে গেলে তাঁদের বাধা দেওয়া হয় এবং পুলিশের সঙ্গে বিজেপি কর্মীদের ধস্তাধস্তি শুরু হয় বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ঘটনাস্থলে পৌঁছান ইলেকট্রনিক কমপ্লেক্স থানার ওসি। অভিযোগ, ওপরমহল থেকে কমিশনারেটের ওপর চাপ আসায় শেষ পর্যন্ত পুলিশ বাহিনী পিছু হঠতে বাধ্য হয়।
তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, ওই কল সেন্টার থেকে ভোটারদের ফোন করে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর জোগাড় করার আড়ালে কোনও বড়সড় আর্থিক লেনদেনের ছক কষা হচ্ছিল। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও তাঁর একাধিক জনসভা থেকে সতর্ক করে বলেছিলেন, “টাকা পাওয়ার আশায় ফোনে অজানা কাউকে নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর দেবেন না।” তৃণমূলের দাবি, এটি আদর্শ আচরণবিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন। এই বিষয়ে শাসক দল নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে গোটা ঘটনায় বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।