নিউজ ডেস্ক: শনিবার দুপুরে খাস কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের আউটডোর বিভাগে আক্ষরিক অর্থেই তৈরি হল এক চরম নাটকীয় পরিস্থিতি। হাসপাতালের অন্দরমহলে কার্যত ‘থরহরি কম্প’ দশা। নদীয়ার শান্তিপুরের এক ১৯ বছর বয়সি যুবকের মানসিক তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেল মেডিসিন বিভাগের ২০৮ নম্বর ঘর। আলমারি থেকে চেয়ার-টেবিল— কিছুই অক্ষত রইল না সেই রোষ থেকে। আর সবথেকে বড় ট্র্যাজেডি হলো, যে ঘরের ভিতরে এই তাণ্ডব চলল, সেই ঘরের দরজার বাইরেই লেখা ছিল— ‘ধৈর্যই শ্রেষ্ঠ সম্পদ, এটি হারাবেন না।’
আউটডোরে আধা ঘণ্টার আতঙ্ক:
হাসপাতাল সূত্রে খবর, শান্তিপুরের বাসিন্দা ওই যুবক তাঁর দিদিমার সঙ্গে এজরা হাউসের মনোরোগ বিভাগে চিকিৎসা করাতে এসেছিলেন। ডাক্তার দেখিয়ে তিন নম্বর গেটের আউটডোরে ওষুধ নিতে যাওয়ার সময়ই ঘটে বিপত্তি। হঠাৎই উন্মত্তের মতো দোতলার ২০৮ নম্বর ঘরে ঢুকে ভিতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেন তিনি। এর পরেই শুরু হয় তাণ্ডবলীলা।
-
ভাঙচুর: ঘরের আলমারি, চেয়ার ও টেবিল উল্টে দেওয়া হয়। আয়না ভেঙে চুরমার করে দেন ওই যুবক।
-
আক্রমণ: উদ্ধার করতে গেলে নিরাপত্তাকর্মীদের দিকেও ধারালো কাচ ও আসবাব ছুড়ে মারার চেষ্টা করেন তিনি।
-
আতঙ্ক: আউটডোরে থাকা অন্যান্য রোগী ও চিকিৎসকদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই ভয়ে ছোটাছুটি শুরু করেন।
পোশাক ও সানগ্লাসের বিনিময়ে শান্তি:
পরিস্থিতি আয়ত্তের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে শেষমেশ খবর দেওয়া হয় পুলিশে। প্রায় দেড় ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনার পর পুলিশ ও হাসপাতাল কর্মীদের প্রচেষ্টায় যুবককে শান্ত করা সম্ভব হয়। আশ্চর্যের বিষয় হলো, ওই যুবককে শান্ত করতে তাঁর আবদার মতো নতুন পোশাক ও একটি সানগ্লাস কিনে দেন হাসপাতাল কর্মীরাই। এরপর তাঁকে প্রয়োজনীয় ওষুধ দিয়ে মনোরোগ বিভাগে ভর্তি করা হয়।
প্রশাসনের বয়ান ও বর্তমান পরিস্থিতি:
মেডিক্যাল কলেজের সুপার তথা উপাধ্যক্ষ ডাঃ অঞ্জন অধিকারী জানিয়েছেন, “যুবকটি গুরুতর ‘অবসেসিভ কমপালসিভ ডিজঅর্ডার’ বা ওসিডি (OCD)-র রোগী। দীর্ঘ সময় ওষুধ না খাওয়ায় তাঁর মধ্যে এই হিংস্র আচরণ দেখা দিয়েছিল।” বর্তমানে তাঁকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
শনিবারের এই ঘটনায় ২০৮ নম্বর ঘরের বাইরে এখনও পড়ে রয়েছে কাচের স্তূপ। রবিবার আউটডোর বন্ধ থাকলেও সোমবার সকালে আবার ভিড় বাড়বে। ফলে দ্রুত সেই ভাঙা কাচ সরিয়ে এলাকা পরিষ্কার করার দাবি তুলেছেন হাসপাতালের কর্মীরা। তবে চরম উত্তেজনার মধ্যেও ওই দরজার ওপর ঝোলানো ‘ধৈর্য’ সংক্রান্ত বাণীটি উপস্থিত সবার নজর কেড়েছে, যা পরিস্থিতির বিচারে ছিল এক নিষ্ঠুর পরিহাস।