নিউজ ডেস্ক: রূপোলি পর্দার চেনা হাসিমুখটা চিরতরে হারিয়ে গিয়েছে তালসারির সমুদ্রসৈকতে। কিন্তু জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই প্রয়াণ কি স্রেফ এক দুর্ঘটনা, নাকি এর পিছনে লুকিয়ে রয়েছে চরম গাফিলতি ও ষড়যন্ত্র? এই প্রশ্ন তুলে এবার আইনি লড়াইয়ে নামল ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল মোশন পিকচার্স আর্টিস্ট ফোরাম’। শনিবার প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত ও রাহুলের স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকারের উপস্থিতিতে রিজেন্ট পার্ক থানায় ‘ভোলেবাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের প্রযোজক লীনা গঙ্গোপাধ্যায় ও পরিচালক শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হল।
জিরো এফআইআর ও তদন্তের মোড়:
শনিবার বিকেলে টলিপাড়ার একঝাঁক তারকাকে সঙ্গে নিয়ে রিজেন্ট পার্ক থানায় পৌঁছান ফোরামের সাধারণ সম্পাদক শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়। সেখানে প্রযোজক ও পরিচালকের বিরুদ্ধে গাফিলতির জেরে মৃত্যু, তথ্য গোপন ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগে একটি ‘জিরো এফআইআর’ রুজু করা হয়েছে। যেহেতু ঘটনাস্থল ওড়িশার তালসারি, তাই লালবাজারের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ ওড়িশা পুলিশের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
ময়নাতদন্তের রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য:
প্রযোজনা সংস্থার দেওয়া বিবৃতির সঙ্গে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের বিস্তর ফারাক ঘিরেই দানা বেঁধেছে রহস্য।
-
সময়ের কারচুপি: প্রযোজনা সংস্থা জানিয়েছিল, রাহুলকে দ্রুত উদ্ধার করা হয়েছিল। কিন্তু ময়নাতদন্ত বলছে, অভিনেতার ফুসফুস ও লিভারে যে পরিমাণ বালি পাওয়া গিয়েছে, তাতে তিনি অন্তত ৪৫ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা ওই চোরাবালিতে আটকে ছিলেন।
-
নিখোঁজ ‘ক্লিনিক’: লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের সংস্থা দাবি করেছিল, উদ্ধারের পর রাহুলকে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু ওড়িশা পুলিশ জানিয়েছে, তালসারি সৈকতের আশেপাশে কোনও ক্লিনিকই নেই।
-
দূরত্ব ও বিলম্ব: তালসারি থেকে দিঘা হাসপাতালের দূরত্ব মাত্র ৮ কিলোমিটার। সেই পথ যেতে ২০ মিনিটের বেশি সময় লাগার কথা নয়। তবে কেন রাহুলকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে ১ ঘণ্টা সময় লাগল, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
ওড়িশা পাড়ি ও টলিপাড়ার প্রতিবাদ:
এদিন থানায় অভিযোগ জানানোর পরেই প্রিয়াঙ্কা সরকারের সঙ্গে তালসারির উদ্দেশ্যে রওনা হন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত ও সৌরভ দাস। ওড়িশা পুলিশের দাবি, ওই এলাকায় শ্যুটিংয়ের জন্য কোনও আগাম অনুমতিই নেওয়া হয়নি। অভিনেতার পুত্র সহজের ভবিষ্যৎ এবং সত্য উদ্ঘাটনের স্বার্থে সরব হয়েছেন টলিউড ইন্ডাস্ট্রি। প্রসেনজিৎ আবেগতাড়িত হয়ে বলেন, “সহজের জানা উচিত, কেন ওর বাবা এভাবে চলে গেল।”
অন্যদিকে, শনিবার সন্ধ্যায় ‘জাস্টিস ফর রাহুল’ স্লোগান তুলে টেকনিশিয়ান স্টুডিয়ো থেকে রাধা স্টুডিয়ো পর্যন্ত এক বিশাল প্রতিবাদ মিছিল করেন কলাকুশলীরা। সৃজিৎ মুখোপাধ্যায়, অনির্বাণ চক্রবর্তী থেকে শুরু করে জুন মালিয়া— প্রত্যেকেই এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। রহস্যের এই চোরাবালি থেকে শেষ পর্যন্ত সত্য উঠে আসে কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা টলিউড।