নিউজ ডেস্ক: নির্বাচনী প্রচারের মাঝেই মালদহে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুরক্ষায় বড়সড় গলদ। শনিবার সামসি কলেজ মাঠে মুখ্যমন্ত্রীর হেলিকপ্টার টেক-অফের ঠিক আগেই সামনে উড়ে এল একটি রহস্যময় ড্রোন। অল্পের জন্য এড়ানো গিয়েছে বড়সড় বিপর্যয়। খোদ মুখ্যমন্ত্রী এই ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর দাবি, ড্রোনটি কপ্টারের পাখায় লাগলে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই বিহারের বাসিন্দা তিন যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

নিমিষের ব্যবধানে রক্ষা:

শনিবার মালদহের ছয় প্রার্থীর সমর্থনে চারটি জনসভা ছিল তৃণমূল নেত্রীর। এনায়েতপুর এবং সামসি কলেজ মাঠের সভা শেষ করে দুপুর ২টো ৫ মিনিট নাগাদ তাঁর গাজোল রওনা হওয়ার কথা ছিল। মুখ্যমন্ত্রী যখন হেলিকপ্টারে উঠেছেন, ঠিক সেই সময় আচমকাই একটি ড্রোন কপ্টারের একদম সামনে চলে আসে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, “সেই সময় হেলিকপ্টারের পাখা বন্ধ ছিল, নয়তো ড্রোনটি ধাক্কা মারলে বড় দুর্ঘটনা ঘটে হেলিকপ্টারটি ধ্বংস হয়ে যেতে পারত।”

তটস্থ পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকা:

নিরাপত্তার এমন স্তরে কীভাবে একটি ড্রোন মুখ্যমন্ত্রীর কপ্টারের এত কাছে পৌঁছে গেল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং। তিনি ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে বলেন, “পুলিশের একটু নজর রাখা দরকার ছিল। কারা এসব করছে, তাদের চিহ্নিত করা উচিত।” ঘটনার গুরুত্ব বুঝে তৎক্ষণাৎ সক্রিয় হয় জেলা পুলিশ। মাঠ থেকেই ড্রোনটি নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং তিন যুবককে আটক করে চাঁচল থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

বিহার যোগ ও তদন্ত:

পুলিশ সূত্রে খবর, আটক তিন যুবকই পড়শি রাজ্য বিহারের বাসিন্দা। নির্বাচনী সভার মতো ‘নো ফ্লাই জোন’ এলাকায় তারা কেন ড্রোন ওড়াচ্ছিল, তার পিছনে কোনও নাশকতার ছক ছিল নাকি নিছকই শখ— তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। মালদহের পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ড্রোনের মেমোরি কার্ড পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। ভোটের মুখে খোদ ভিভিআইপি-র নিরাপত্তায় এই ধরণের ফাটল ধরলে তার দায় কার, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর তরজা।

Share on Social Media