নিউজ ডেস্ক: এক মাসের ব্যবধান কাটতে না কাটতেই উত্তর দিনাজপুরের কুলিক নদীতে ফের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। নদীতে স্নান করতে নেমে তলিয়ে মৃত্যু হলো দুই কিশোরের। বুধবার রায়গঞ্জের শিয়ালমণি এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতদের নাম প্রীতম আচার্য ও বিশ্বজিৎ দাস। দু’জনেরই বয়স ১৬ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে। প্রীতম পূর্ব কলেজপাড়া এবং বিশ্বজিৎ বীরনগরের বাসিন্দা ছিল।
বন্ধুদের সঙ্গে স্নান করতে গিয়েই বিপর্যয়: স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার দুপুরে প্রীতম ও বিশ্বজিৎ তাদের বন্ধুদের সঙ্গে কুলিক নদীর শিয়ালমণি ঘাটে স্নান করতে গিয়েছিল। স্নান করার সময় অসাবধানতাবশত তারা গভীর জলে চলে যায় এবং আচমকা তলিয়ে যায়। বন্ধুদের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ছুটে আসেন। তাঁদের তৎপরতায় নদী থেকে দুই কিশোরের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। মৃত দু’জনেই রায়গঞ্জ করোনেশন হাই স্কুলের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিল। দুই মেধাবী ছাত্রের এই অকাল প্রয়াণে পরিবার ও সহপাঠীদের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। পুলিশ দেহ দু’টি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
পুরপ্রশাসকের উদ্বেগ ও অভিভাবকদের প্রতি আর্জি: মাসখানেক আগেই কুলিক নদীতে স্নান করতে নেমে শুভাশিস মণ্ডল নামে রায়গঞ্জের আরও এক স্কুল ছাত্রের মৃত্যু হয়েছিল। বারবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তিতে নদীঘাটে নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। রায়গঞ্জের পুরপ্রশাসক সন্দীপ বিশ্বাস এই ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করে বলেন, “এক মাসও হয়নি অশোকপল্লির একটি ছেলে এভাবেই মারা গিয়েছিল। এই ঘটনাগুলো অত্যন্ত বেদনাদায়ক। অভিভাবকদের আরও সচেতন হতে হবে যাতে সন্তানরা নির্জন নদীঘাটে চলে না আসে।” তিনি আরও জানান যে, ভোট মিটলেই পুলিশ ও পুরপ্রশাসন মিলে ঘাটগুলিতে নজরদারি এবং মাইকিং করে সচেতনতা প্রসারের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
নজরদারির দাবি স্থানীয়দের: এলাকাবাসীদের অভিযোগ, কুলিক নদীর বিভিন্ন ঘাটে প্রায়শই কিশোর-কিশোরীরা ভিড় করে, কিন্তু সেখানে কোনও নিরাপত্তা কর্মী বা সতর্কবার্তা থাকে না। বিশেষ করে বর্ষার আগে নদীর জলস্তর ও চোরাস্রোত সম্পর্কে ধারণা না থাকায় এই ধরণের দুর্ঘটনা বাড়ছে। নদী তীরবর্তী নির্জন এলাকাগুলিতে পুলিশি টহলদারির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।