নিউজ ডেস্ক: বকেয়া আর্থিক দাবিদাওয়া পূরণ না হওয়ায় বিধানসভা নির্বাচনে ভোট বয়কটের ডাক দিয়েছে রেশন ডিলারদের একাংশ। তবে এই চরম সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ডিলারদের দুই প্রধান সংগঠনের মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। একদিকে ‘অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলার্স ফেডারেশন’ যেখানে ভোট বয়কটের দাবিতে অনড়, অন্যদিকে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল এম আর ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন’ এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করে গণতন্ত্র রক্ষায় ভোটদানের সওয়াল করেছে।
ফেডারেশনের বয়কটের ডাক: ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু এক সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছেন, রাজ্য ও কেন্দ্রের শাসক শিবিরের কাছে একাধিকবার ডিলারদের আর্থিক সুরক্ষার দাবি জানানো হলেও কোনও ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। ডিলারদের স্বার্থে বাধ্য হয়েই তাঁরা এই চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রাজ্যের প্রায় ২১ হাজার ডিলার এবং তাঁদের দোকানের কর্মী ও পরিবারের সদস্যদের এই বয়কট কর্মসূচিতে শামিল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে সংগঠনের পক্ষ থেকে। তাঁদের দাবি, রাজনৈতিক দলগুলি ডিলারদের গুরুত্ব না দিলে তাঁরাও নির্বাচনে অংশ নেবেন না।
অ্যাসোসিয়েশনের পাল্টা অবস্থান: ফেডারেশনের এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছে ওয়েস্ট বেঙ্গল এম আর ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন। বুধবার সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হাজি হাসান উল্লা লশকর সাফ জানিয়ে দেন, বয়কট কোনও সমাধান নয়। তিনি বলেন, “গণতন্ত্রকে মজবুত করতে রেশন ডিলার, কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের অবশ্যই ভোট দেওয়া উচিত। নির্বাচনের পর যে নতুন সরকার গঠিত হবে, তাদের কাছেই আমরা আমাদের জোরালো দাবি পেশ করার সুযোগ পাব।” বয়কট করলে হিতে বিপরীত হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে এই সংগঠন।
বিভ্রান্তিতে ডিলার মহল: ভোটের মুখে দুই সংগঠনের এই ভিন্নমুখী অবস্থানে সাধারণ রেশন ডিলাররা কিছুটা বিভ্রান্তিতে পড়েছেন। দীর্ঘদিনের বকেয়া কমিশন এবং পরিকাঠামোগত উন্নতির দাবিতে ডিলাররা ঐক্যবদ্ধ থাকলেও, ভোটের ময়দানে প্রতিবাদের ধরন নিয়ে এই ফাটল স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। একপক্ষ যখন বলছে ‘দাবি মানো নয়তো ভোট নয়’, অন্যপক্ষ তখন গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করে নতুন সরকারের সঙ্গে দরকষাকষির পক্ষপাতী। এখন দেখার, নির্বাচনের দিন বুথমুখী হওয়ার হার ডিলার মহলে কেমন থাকে।