১. সংঘাতের মূল পটভূমি: দুই অক্ষের লড়াই
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্ব রাজনীতিতে, বিশেষ করে এশিয়া ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে দুটি বিপরীত মেরু তৈরি হচ্ছে:
- পক্ষ ১ (ইসলামীয় নেটো ধারণা): পাকিস্তান, তুরস্ক, সৌদি আরব (সম্ভাব্য) এবং আজারবাইজান। এদের মূল শক্তি পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্র এবং তুরস্কের সামরিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা।
- পক্ষ ২ (ভূমধ্যসাগরীয় কোয়াড): ভারত, ইজরায়েল, গ্রিস এবং সাইপ্রাস (সাথে সংযুক্ত আরব আমিরাতও থাকতে পারে)। এদের লক্ষ্য হলো তুরস্ক-পাকিস্তান জোটকে চাপে রাখা।
নিচের মানচিত্রটি দেখলে আপনি বুঝতে পারবেন ভৌগোলিকভাবে এই দেশগুলির অবস্থান এবং কীভাবে ভারত এই জোটে যোগ দিলে একটি শক্তিশালী বলয় তৈরি হবে।
২. সাইপ্রাস ও গ্রিসের সাথে তুরস্কের বিবাদ
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান অটোমান সাম্রাজ্যের হৃত গৌরব ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন বলে মনে করা হয়। এর ফলে গ্রিস এবং সাইপ্রাসের সাথে তুরস্কের দীর্ঘদিনের বিবাদ (সমুদ্রসীমা এবং দ্বীপ দখল নিয়ে) আবার মাথাচাড়া দিচ্ছে।
- ১৯৭৪ সালে তুরস্ক সাইপ্রাসের উত্তরাংশ দখল করে নেয়, যা ‘টার্কিস রিপাবলিক অফ নর্দার্ন সাইপ্রাস’ নামে পরিচিত (যদিও বিশ্ব একে স্বীকৃতি দেয় না)।
- সাইপ্রাসের বাকি অংশ গ্রিসের ঘনিষ্ঠ এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত।
- ভারত, ইজরায়েল এবং গ্রিস—এই তিন দেশই তুরস্কের আগ্রাসনের বিরোধী।
নিচের ডায়াগ্রামটি দেখলে সাইপ্রাসের এই বিভাজন এবং তুরস্কের কৌশলগত অবস্থান পরিষ্কার হবে।
৩. আর্মেনিয়া-আজারবাইজান সংঘাত এবং ভারতের ভূমিকা
নিবন্ধে ককাশাস অঞ্চলের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এখানেও একটি প্রক্সি যুদ্ধ চলছে:
- আজারবাইজান: এদের সমর্থন করছে পাকিস্তান এবং তুরস্ক (ইসলামীয় ভ্রাতৃত্বের নামে)।
- আর্মেনিয়া: এদের সমর্থন করছে ভারত (অস্ত্র সরবরাহের মাধ্যমে)।
ভারত আর্মেনিয়াকে ‘পিনাকা’ রকেট লঞ্চার এবং আকাশ মিসাইল সিস্টেম দিচ্ছে, কারণ আজারবাইজান পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ মিত্র। এই সমীকরণটি নিচের ম্যাপে স্পষ্ট হবে।
৪. ভারতের জন্য কেন এটি ‘মাস্টারস্ট্রোক’?
বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন জোটে (‘ভূমধ্যসাগরীয় কোয়াড’) যোগ দিলে ভারতের লাভ দ্বিমুখী:
- পাকিস্তানকে ঘেরাও: পাকিস্তানের ‘পরমাণু ছাতা’ এবং তুরস্কের ড্রোন প্রযুক্তির মোকাবিলা করতে ইজরায়েল ও গ্রিসের উন্নত প্রযুক্তি (যেমন রাডার, এয়ার ডিফেন্স) ভারত পাবে।
- বাণিজ্যিক ও সামরিক লাভ: ভারত এই দেশগুলিতে (বিশেষ করে গ্রিস ও আর্মেনিয়াতে) বিপুল পরিমাণে অস্ত্র রপ্তানি করতে পারবে এবং ভূমধ্যসাগরীয় এলাকায় নিজের প্রভাব বিস্তার করতে পারবে।
সংক্ষেপে, ভারত প্রশান্ত মহাসাগরে যেমন চিনের বিরুদ্ধে ‘কোয়াড’ (Quad) তৈরি করেছে, ঠিক তেমনি পশ্চিম এশিয়ায় পাকিস্তান-তুরস্ক অক্ষকে রুখতে এই নতুন ভূমধ্যসাগরীয় জোট গড়ার পথে হাঁটছে।