মৃত্যু মানেই কি শোকের আবহ? বিচ্ছেদ মানেই কি শুধুই চোখের জল? মালদহ জেলার হরিশ্চন্দ্রপুরের বারোডাঙ্গা এলাকা সোমবার সাক্ষী থাকল এক সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্রের। ১০৩ বছর বয়সে প্রয়াত হওয়া এলাকার সবথেকে প্রবীণ বাসিন্দা রাসো দাসের প্রয়াণকে শোকের বদলে জীবনের ‘উৎসব’ হিসেবেই বেছে নিলেন তাঁর নাতি-পুতিরা। শতায়ু পার করা ঠাকুমার মরদেহ শ্মশানে নিয়ে যাওয়ার পথে চলল ব্যান্ড পার্টি, খোল-করতাল আর হরিনাম সংকীর্তন। আর সেই তালের সঙ্গে নাচতে নাচতেই ঠাকুমাকে শেষ বিদায় জানালেন তাঁর উত্তরসূরিরা।
এলাকার বাসিন্দাদের মতে, রাসো দেবী শুধু বয়সের সংখ্যার সেঞ্চুরিই করেননি, তিনি এক বর্ণময় ও পূর্ণ জীবন যাপন করে গিয়েছেন। বারোডাঙ্গা এলাকায় তিনিই ছিলেন একমাত্র ব্যক্তি যিনি ১০৩ বছর আয়ু লাভ করেছিলেন। সোমবার তাঁর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগের পর পরিবারের সদস্যরা সিদ্ধান্ত নেন, এই বিচ্ছেদ চোখের জলে নয়, বরং মর্যাদার সাথে হাসিমুখে উদযাপন করা হবে। এদিন তাঁর মরদেহ নিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তার দু’ধারে শত শত মানুষ ভিড় করেন। সামনে ব্যান্ড বাজনার সুর আর পেছনে খোল-করতাল নিয়ে নাতি-নাতনিদের নাচের এই দৃশ্য সচরাচর দেখা যায় না।
পরিবারের এক সদস্য জানান, “ঠাকুমা তাঁর জীবনের সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছেন। তিনি আমাদের কাছে এক বিশাল বটগাছের মতো ছিলেন। তাই তাঁকে কান্নায় বিদায় না দিয়ে উৎসবের মেজাজে পরলোকে পাঠাতে চেয়েছি আমরা।” হরিশ্চন্দ্রপুরবাসী এই নজিরবিহীন শেষযাত্রাকে এক অনন্য শ্রদ্ধাঞ্জলি হিসেবেই দেখছেন। শোকের কৃষ্ণপক্ষ পেরিয়ে এক শতায়ু জীবনের এমন বর্ণাঢ্য বিসর্জন এলাকায় দীর্ঘকাল চর্চায় থাকবে। ছবি প্রতীকী