কালিয়াচকের বাতাসে এখন শুধুই শিশু পাচারের আতঙ্ক। সেই মারণফাঁদ থেকে একপ্রকার অলৌকিকভাবেই জীবন ফিরে পেল ৯ বছরের আমান শেখ। অপহরণকারীদের চোখে ধুলো দিয়ে ঘন জঙ্গলের মধ্য দিয়ে দৌড়ে একটি আমবাগানের মগডালে সারা রাত লুকিয়ে কাটিয়ে দিল সে। রবিবার সকালে এই খুদেকে উদ্ধারের ঘটনায় কালিয়াচকের আলিপুর পঞ্চায়েতের গিয়াসু মোড় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে খবর, শনিবার সকালে কালিয়াচক চৌরঙ্গী মোড়ে ভিক্ষা করার সময় আমানকে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে ফুসলিয়ে খালতিপুর রেলস্টেশনের পিছনের একটি নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যায় এক দুষ্কৃতী। অভিযোগ, সেখানে নাবালককে বিবস্ত্র করে মারধর করা হয় এবং তার বাবা-মায়ের ফোন নম্বর চাওয়া হয়। ওই দুষ্কৃতী যখন ফোনে তার অন্য এক সঙ্গীকে ডাকছিল, ঠিক সেই সুযোগেই মরণপণ দৌড় দেয় আমান। দুষ্কৃতীরা তার পিছু নিলেও প্রাণভয়ে একটি আমগাছের মগডালে গিয়ে আত্মগোপন করে সে। তন্নতন্ন করে খুঁজেও তার হদিস পায়নি অপহরণকারীরা। সারা রাত ওই গাছেই কাঁপতে কাঁপতে রাত কাটানোর পর রবিবার সকালে বাগানের মালিক তাকে দেখতে পেয়ে উদ্ধার করেন।
আমানের মা রেশমা বিবির অভিযোগ, গরিব ঘরের ছেলে পেয়ে ওকে পাচার কিংবা কিডনি বের করে নেওয়ার ছক কষা হয়েছিল। কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি বলেন, “আর ছেলেকে ভিক্ষা করতে পাঠাব না, বিড়ি বেঁধে সংসার চালাব তবুও ওকে চোখের আড়াল করব না।” কালিয়াচক থানার আইসি লিটন রক্ষিত জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে এবং ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে তদন্ত শুরু হয়েছে। পাচার চক্রটিকে চিহ্নিত করতে কালিয়াচক জুড়ে পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে ওই নাবালক মালদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।