রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার ফুরিয়ে যাওয়ার দুশ্চিন্তা কিংবা বুকিংয়ের ঝক্কি— জলপাইগুড়িবাসী এখন এসব থেকে মুক্তি পাওয়ার পথে। শহর ও শহরতলী এলাকায় দ্রুতগতিতে চলছে পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস বা ‘পিএনজি’ (PNG) সংযোগের কাজ। হিন্দুস্থান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড (HPCL)-এর এই উদ্যোগে ইতিমধ্যে পাহাড়পুর, পাতকাটা ও মোহিতনগর এলাকার প্রায় ৫,১০০ বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছে রান্নার গ্যাস। সংস্থার লক্ষ্য, আগামী এপ্রিল মাসের মধ্যে শহর ও পঞ্চায়েত এলাকা মিলিয়ে মোট ৩০ হাজার সংযোগ সম্পন্ন করা।
এইচপিসিএল-এর দাবি, প্রথাগত এলপিজি সিলিন্ডারের তুলনায় পাইপলাইনের এই ন্যাচারাল গ্যাস (মিথেন) অনেক বেশি নিরাপদ। এলপিজি-তে বিউটেন ও প্রোপেন থাকে যা বাতাসের চেয়ে ভারী হওয়ায় লিক করলে মেঝের কাছে জমে থাকে, ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। অন্যদিকে, ন্যাচারাল গ্যাস বাতাসের চেয়ে হালকা। ফলে লিক করলেও তা দ্রুত বায়ুমণ্ডলে মিশে যায়, যা অগ্নিকাণ্ডের আশঙ্কা কমিয়ে দেয়।
ইতিমধ্যে যে সমস্ত গ্রাহকরা এই পরিষেবা ব্যবহার শুরু করেছেন, তাঁদের মধ্যে স্বস্তি দেখা গিয়েছে। সিলিন্ডার বুকিং বা বারবার ভাউচার খোঁজার ঝামেলা না থাকায় খুশি গৃহকর্ত্রীরা। তবে খরচের ফারাক নিয়ে শহরবাসীর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। গ্রাহকদের একাংশের মতে, অন্তত এক মাস ব্যবহারের পর সিলিন্ডারের তুলনায় খরচের প্রকৃত পার্থক্য বোঝা যাবে। আধুনিক এই পরিষেবা জলপাইগুড়ির জনজীবনে এক বড়সড় বদল আনছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।