নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: সিবিআই বা ইডি-র নাম ভাঁজিয়ে ‘ডিজিটাল গ্রেফতারি’র ভয় দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতানোর নয়া কারবার খাস কলকাতায়। বেহালার এক ব্যবসায়ী দম্পতিকে কার্যত গৃহবন্দি করে তিন কোটি টাকার বেশি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে আরও এক যুবককে গ্রেফতার করল লালবাজারের গোয়েন্দারা। ধৃতের নাম মহম্মদ আমজাদ। রবিবার রাতে মারকিউ স্ট্রিট এলাকায় তাঁর ডেরায় হানা দিয়ে এই সাফল্য পায় পুলিশ।
ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের অক্টোবরে। পুলিশ সূত্রের খবর, বেহালার বাসিন্দা পেশায় ব্যবসায়ী বিধান ঘোষদস্তিদারকে প্রথম ফোনটি করে এক ব্যক্তি নিজেকে কুরিয়ার সংস্থার আধিকারিক পরিচয় দিয়ে। দাবি করা হয়, বিধানবাবুর নামে আসা একটি পার্সেলে নিষিদ্ধ মাদক মিলেছে এবং বিষয়টি সিবিআই ও ইডি-র নজরে রয়েছে। এর ঠিক পরেই এক ব্যক্তি সিবিআই আধিকারিক ‘অমিত কুমার’ সেজে ভিডিও কল করে ওই দম্পতিকে। ভিডিও কলে দেখানো হয় সিবিআই, আরবিআই এবং ইডি-র ভুয়ো পরিচয়পত্র। ভয় দেখানো হয়, অবিলম্বে টাকা না দিলে তাঁদের গ্রেফতার করা হবে। আতঙ্কে ওই দম্পতি দফায় দফায় মোট ৩ কোটি ১ লক্ষ টাকা প্রতারকদের অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেন। পরে প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে সাইবার ক্রাইম থানায় দ্বারস্থ হন তাঁরা।
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, মারকিউ স্ট্রিটে আমজাদের একটি দোকান রয়েছে। তাঁর গোপন ডেরায় তল্লাশি চালিয়ে চক্ষু চড়কগাছ তদন্তকারীদের। সেখান থেকে উদ্ধার হয়েছে ১২টি সিম বক্স, ২,২৫০টি প্রি-অ্যাক্টিভেটেড সিম কার্ড, ১৭টি মোবাইল ফোন, ৯টি রাউটার এবং একটি ল্যাপটপ। তদন্তকারীদের অনুমান, ধৃত আমজাদ আন্তর্জাতিক প্রতারণা চক্রের একটি বড় যোগসূত্র হতে পারে। এত বিশাল সংখ্যক সিম কার্ড ও টেলিকমিউনিকেশন সরঞ্জাম দিয়ে বড়সড় কোনও নেটওয়ার্ক চালানো হচ্ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।