নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: শতাব্দী প্রাচীন স্থাপত্যের সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির মেলবন্ধন। যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্যে জৌলুস বাড়াতে এবার কোমর বেঁধে নামল ভারতীয় রেল। ২৫ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজেটের ‘অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্প’ সম্ভবত বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম রেল পুনর্নির্মাণ কর্মসূচি। আর সেই মেগা প্রজেক্টে বিশেষ গুরুত্ব পেল পশ্চিমবঙ্গ। রাজ্যের মোট ১০১টি স্টেশনের আমূল ভোলবদলের জন্য রেলের তরফে বরাদ্দ করা হয়েছে প্রায় ৩,৬০০ কোটি টাকা।
শুধু রঙের পোঁচ নয়, বদল পরিকাঠামোতেও রেল সূত্রে খবর, এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য কেবল স্টেশন চত্বর রং করা বা ঝকঝকে করা নয়। বরং স্টেশনের পরিকাঠামোয় আমূল পরিবর্তন আনা।
- স্থানীয় ঐতিহ্য: যে এলাকার স্টেশন, সেই এলাকার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ছাপ থাকবে স্টেশনের স্থাপত্যে।
- আধুনিক সুবিধা: তৈরি হচ্ছে অত্যাধুনিক প্রতীক্ষালয়, ডিজিটাল তথ্য বোর্ড এবং অবাধ চলাচলের জন্য প্রশস্ত জায়গা।
- দিব্যাঙ্গ-বান্ধব: শারীরিক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে এমন যাত্রীদের জন্য বিশেষ র্যাম্প ও লিফটের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।
তালিকায় কারা? শহরের ব্যস্ততম স্টেশন থেকে শুরু করে প্রান্তিক জনপদ—তালিকায় রয়েছে সব ধরনের স্টেশনই। হাওড়া, শিয়ালদহ, খড়্গপুর, আসানসোল, মালদা টাউন, ব্যান্ডেল, চন্দননগর থেকে শুরু করে আলিপুরদুয়ার—রাজ্যের ১০১টি স্টেশন সেজে উঠছে নতুন রূপে।
নজরে এনজেপি ও সাঁতরাগাছি উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার নিউ জলপাইগুড়ি (NJP) স্টেশনের জন্য বরাদ্দ হয়েছে প্রায় ৩৩৫ কোটি টাকা। এখানে তৈরি হচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের টার্মিনাল এবং ‘এয়ার কনকোর্স’। অন্যদিকে, হাওড়া স্টেশনের ওপর চাপ কমাতে সাঁতরাগাছিকে ‘মাল্টি-মোডাল হাব’ হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। এর জন্য বিনিয়োগ করা হচ্ছে প্রায় ৩৮০ কোটি টাকা। শালিমার এবং আসানসোলেও কাজ চলছে দ্রুত গতিতে।
যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্যে জোর পূর্ব রেল জানিয়েছে, উন্নয়নের কাজ কেবল কাগজে-কলমে নয়, বাস্তবেও দৃশ্যমান। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন স্টেশনে ২৫০টি লিফট এবং ৪০০-র বেশি এস্কালেটর বসানো হয়েছে। এছাড়া ৫১০টি স্টেশনে যাত্রীরা পাচ্ছেন হাই-স্পিড ওয়াই-ফাই পরিষেবা। রেলের দাবি, কাজ সম্পূর্ণ হলে বাংলার রেল মানচিত্রের ছবিটাই বদলে যাবে।