আরজি কর আন্দোলনের সময় বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে ‘দাদাগিরি’র অভিযোগে বিতর্কিত হয়ে ওঠা সিনিয়র রেসিডেন্ট বিরূপাক্ষ বিশ্বাসকে ঘিরে ফের প্রশ্নের মুখে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর। রাজ্য হেল্থ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের (এইচআরবি) প্রকাশিত শিক্ষক-চিকিৎসক নিয়োগের প্যানেল তালিকায় তাঁর নাম উঠে আসতেই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। পরিস্থিতি সামাল দিতে আপাতত ওই প্যানেল তালিকার উপর স্থগিতাদেশ জারি করল স্বাস্থ্য দফতর।
স্বাস্থ্য দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, প্রকাশিত প্যানেল তালিকাটি সঠিক নয়। সেই কারণেই পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তালিকাটি কার্যকর করা হচ্ছে না। উল্লেখ্য, আরজি কর আন্দোলনের সময়ে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের প্যাথোলজি বিভাগের সিনিয়র রেসিডেন্ট বিরূপাক্ষ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ ওঠে। সেই সময় তাঁকে প্রথমে কাকদ্বীপ মহকুমা হাসপাতালে কাজে যোগ দেওয়ার জন্য রিলিজ় অর্ডার দেওয়া হলেও পরে তাঁকে নিলম্বিত করে স্বাস্থ্য দফতর।
তবে প্রশ্ন উঠছে, নিলম্বিত অবস্থায় থাকা সত্ত্বেও কী ভাবে বিরূপাক্ষের নাম নিয়োগের প্যানেল তালিকায় জায়গা পেল? তাঁর সাসপেনশন কি তুলে নেওয়া হয়েছে? যদি তা হয়ে থাকে, তবে তার কোনও সরকারি বিজ্ঞপ্তি কেন প্রকাশ্যে এল না—এই প্রশ্নগুলির উত্তর এখনও মেলেনি।
বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগমকে চিঠি দেয় অ্যাসোসিয়েশন অফ হেল্থ সার্ভিস ডক্টরস। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক উৎপল বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তোলেন, “যাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল এবং যাঁকে নিলম্বিত করা হয়েছিল, তাঁর নাম কী ভাবে নিয়োগ প্যানেলে এল?” দ্রুত স্বাস্থ্য দফতরের হস্তক্ষেপের দাবিও জানানো হয়।
সব মিলিয়ে, শিক্ষক-চিকিৎসক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হল রাজ্যে।