নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: তপ্ত বেলডাঙা ঠান্ডা করতে এবার আসরে নামল কলকাতা হাই কোর্ট। মুর্শিদাবাদের এই জনপদে শান্তি ফেরাতে প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় বাহিনী ব্যবহারের পূর্ণ স্বাধীনতা জেলা প্রশাসনকে দিল আদালত। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথী সেনের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, জেলায় ইতিমধ্যেই যে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রয়েছে, প্রশাসন চাইলে অশান্তি দমনে তাদের কাজে লাগাতে পারবে। তবে এই বাহিনী পরিচালনার রাশ থাকবে জেলা প্রশাসনের হাতেই।
পুরনো বাহিনীতেই আস্থা, প্রয়োজনে আরও আদালতের পর্যবেক্ষণ, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে মুর্শিদাবাদে গোলমালের জেরে সাধারণ মানুষের সুরক্ষায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। বর্তমানে জেলায় ৫ কোম্পানি বাহিনী রয়েছে। বেলডাঙার বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই বাহিনীকেই ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছে বেঞ্চ। আদালতের মন্তব্য, “জীবন ও জীবিকা রক্ষায় ওই ফোর্স ব্যবহার করা হোক। যদি বাহিনীর সংখ্যা কম পড়ে, তবে কেন্দ্রকে আরও ফোর্সের অনুমোদন দিতে হবে।” তবে পুরো প্রক্রিয়ায় জেলাশাসক (DM) এবং পুলিশ সুপারকে (SP) কড়া হাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
এনআইএ তদন্তের দরজা খোলা বেলডাঙার ঘটনায় এনআইএ (NIA) তদন্তের দাবিও উঠেছিল। এ প্রসঙ্গে আদালত জানিয়েছে, রাজ্য পুলিশ তদন্ত করছে ঠিকই, তবে কেন্দ্রীয় সরকার যদি মনে করে যে ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে এনআইএ তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে, তবে তারা সেই নির্দেশ দিতে পারে। এ বিষয়ে আদালত কোনো বাধা দেবে না।
রাজ্য কী বলছে? এদিন শুনানিতে রাজ্যের হয়ে সওয়াল করেন বর্ষীয়ান আইনজীবী তথা সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আইনজীবী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের দাবি, ঝাড়খণ্ডে পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দিনের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিল জনতা। তবে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। এখনও পর্যন্ত ৩১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ৪টি মামলা রুজু হয়েছে। রাজ্যের আশল, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক, বাজারহাট খুলেছে এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা এলাকায় রুট মার্চ করছেন।
মামলাকারীদের অভিযোগ অন্যদিকে, মামলাকারীদের আইনজীবী বিল্বদল ভট্টাচার্য অভিযোগ করেন, বেলডাঙায় যা হয়েছে তা ‘পূর্বপরিকল্পিত তাণ্ডব’। রেলের সম্পত্তি নষ্ট করা হয়েছে, সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এমনকি পুলিশ সুপারও ‘সেন্টিমেন্ট’-এর দোহাই দিয়ে কড়া পদক্ষেপ করছেন না বলে অভিযোগ। তাঁদের দাবি ছিল, অবিলম্বে এলাকায় ১৬৩ ধারা (পূর্বতন ১৪৪ ধারা) জারি করা হোক।
আপাতত দু’সপ্তাহের মধ্যে রাজ্যকে এ বিষয়ে বিস্তারিত হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট। মামলার পরবর্তী শুনানিতেই স্পষ্ট হবে বেলডাঙার জল কোন দিকে গড়ায়।