ভোটের আগে ভোটার তালিকা ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা। ফর্ম-৭ জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে থাকা সব ধরনের ‘লিমিটেশন’ তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন। ফলে এবার থেকে একজন ইলেকটর বা কোনও সংগঠন ইচ্ছেমতো সংখ্যায় ফর্ম-৭ জমা দিতে পারবে। পাশাপাশি ফর্ম জমা দেওয়ার সময়সীমাও বাড়িয়ে ১৯ জানুয়ারি করা হয়েছে। এই ঘোষণার পরেই রাজ্যজুড়ে শুরু হয়ে গেছে রাজনৈতিক তরজা ও মাঠযুদ্ধ।
আগে নিয়ম ছিল, একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক ফর্ম জমা দেওয়া যাবে না এবং বুথ লেভেল এজেন্টরা সর্বোচ্চ ১০টি করে ফর্ম-৭ জমা দিতে পারবেন। আচমকাই সেই নিয়ম বদলে দেওয়ায় প্রশ্নের মুখে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা। তৃণমূল কংগ্রেসের সরাসরি অভিযোগ, বিজেপিকে সুবিধা দিতে এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতেই এই সিদ্ধান্ত।
তৃণমূলের দাবি, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিজেপি তাদের ‘টার্গেট’ পূরণ করতে পারেনি বলেই সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। এর জেরে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদিও বিজেপি এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেছে, নির্বাচন কমিশন বাস্তব পরিস্থিতি বুঝে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, কেউ একসঙ্গে পাঁচজনের নামে আপত্তি জানালে সংশ্লিষ্ট ইআরও (ERO) প্রতিটি অভিযোগ আলাদাভাবে যাচাই করবেন। বিএলএদেরও আপত্তি জানানোর অধিকার থাকবে। যাঁদের নামে ফর্ম-৭ জমা পড়বে, তাঁদের প্রত্যেককে শুনানিতে ডাকা হবে। অনলাইনে আবেদন করলেও একই নিয়ম কার্যকর হবে বলে কমিশন জানিয়েছে।
মাঠে নেমেছে রাজনৈতিক দলগুলি। বিজেপি সূত্রে খবর, প্রতিটি জেলা নেতৃত্বকে ফর্ম-৭ জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং দলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সেই বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। শনিবার থেকেই বিভিন্ন জেলায় বিজেপি নেতারা একযোগে ফর্ম জমা দিতে শুরু করেছেন।
অন্যদিকে, বৈধ ভোটারদের নাম যাতে বাদ না যায়, সেই আশঙ্কায় তৃণমূলও শুনানি কেন্দ্রগুলিতে পাহারা বসিয়েছে। পূর্ব বর্ধমানে শুক্রবার পর্যন্ত প্রায় ২০০টি আবেদন জমা পড়লেও শনিবার বিজেপি নেতারা কয়েকশো ফর্ম জমা দিতে গেলে তৃণমূল বাধা দেয়। তা নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে।
বর্ধমান শহর তৃণমূল সভাপতি তন্ময় সিংহরায়ের অভিযোগ, “মানুষ শীতে কাঁপতে কাঁপতে ভোটার তালিকায় নাম তুলছে, আর বিজেপি সেই নাম কেটে দিতে চাইছে। কমিশন যদি বিজেপির কথামতো চলে, তাহলে জনরোষ অবশ্যম্ভাবী।” পাল্টা বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্রের দাবি, “ফর্ম-৭ মানেই নাম বাদ নয়। তৃণমূল আতঙ্কে ভুগছে। তালিকায় এখনও বহু অবৈধ ভোটার রয়েছে। তাদের রক্ষা করতেই এই নাটক।”
ফর্ম-৭ ঘিরে কমিশনের এই সিদ্ধান্তে ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা বাড়বে, নাকি রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হবে—সেই প্রশ্নেই এখন রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু।
বাথরুমে সোনার খনি! ভাড়াটেকে চাবি দিয়ে বাড়ি ছাড়তেই সর্বস্বান্ত মালিক, চাঞ্চল্য মুরারইয়ে
নিজস্ব সংবাদদাতা, রামপুরহাট: বিশ্বাসই কি তবে কাল হলো? পাঁচ বছরের ‘আস্থাভাজন’ ভাড়াটেকে ঘরের চাবি দিয়ে আত্মীয়র বাড়ি গিয়েছিলেন বীরভূমের মুরারইয়ের চাতরা গ্রামের বাসিন্দা রেজাউল করিম। ফিরে এসে দেখলেন আলমারি ভাঙা,…