নিউজ ডেস্ক: খাতায়-কলমে তিনি ‘পলাতক’, কিন্তু বাস্তব বলছে অন্য কথা। দক্ষিণ কলকাতার ত্রাস হিসেবে পরিচিত বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পুর নাম পুলিশের ‘হিস্ট্রি শিটার’ তালিকা থেকে রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে যাওয়ায় শোরগোল পড়ে গেল লালবাজারে। একজন কুখ্যাত দুষ্কৃতীকে আড়াল করার অভিযোগে সোমবার সকালে কসবা থানার ওসি (অফিসার ইন-চার্জ) বিশ্বজিৎ দেবনাথকে সাসপেন্ড করল কলকাতা পুলিশ। নির্বাচনের মুখে পুলিশের এই ‘সক্রিয়তা’ ও দুষ্কৃতী-যোগের কেলেঙ্কারি সামনে আসতেই রীতিমতো অস্বস্তিতে প্রশাসন।
হিস্ট্রি শিট থেকে উধাও ‘দাগী’র নাম
ঘটনার সূত্রপাত গত শুক্রবার। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে এক পুলিশ অবজার্ভার কসবা থানায় রুটিন তল্লাশিতে যান। সেখানে ‘দাগী’ অপরাধীদের তালিকা অর্থাৎ হিস্ট্রি শিট পরীক্ষা করতে গিয়েই চোখ কপালে ওঠে তাঁর। দেখা যায়, তোলাবাজি, গুলি চালানো এবং খুনের চেষ্টার মতো একাধিক গুরুতর মামলায় অভিযুক্ত সোনা পাপ্পুর নাম সেই তালিকায় নেই। এমনকি থানার ‘রাফ রেজিস্টার’-এও তার নামের কোনও উল্লেখ পাওয়া যায়নি।
লালবাজার সূত্রে খবর, কসবা, গড়িয়াহাট, তিলজলা-সহ একাধিক থানায় সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে মামলার পাহাড় জমে থাকলেও তাকে ধরার জন্য কোনও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বা ‘প্রোক্লেম অফেন্ডার’ ঘোষণার সক্রিয়তা দেখায়নি পুলিশ। উল্টে অভিযোগ উঠেছে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে তার শাগরেদরা ধরা পড়লেও পুলিশের একাংশের ‘তৎপরতায়’ তারা অনায়াসে জামিন পেয়ে গিয়েছিল।
পুলিশের টাকা কি অপরাধীর ব্যবসায়?
ওসির কাছে এই বিশৃঙ্খলার ব্যাখ্যা চাওয়া হলে তিনি কোনও সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি। এর পরেই কঠোর পদক্ষেপ নেয় লালবাজার। গোয়েন্দারা খতিয়ে দেখছেন, সোনা পাপ্পুর সঙ্গে পুলিশ মহলের একাংশের ঠিক কতটা দহরম-মহরম রয়েছে। অভিযোগ আরও গুরুতর— শোনা যাচ্ছে, পুলিশের কতিপয় আধিকারিক ওই দুষ্কৃতীর ব্যবসায় টাকা বিনিয়োগ করেছেন। সেই ‘প্রভাব’ খাটিয়েই কি পুলিশের খাতা থেকে নিজের নাম মুছিয়ে ফেলেছিল পাপ্পু? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে শুরু হয়েছে বিভাগীয় তদন্ত।
কমিশনের কড়া নজর ও ওসির শাস্তি
গত সপ্তাহে সোনা পাপ্পুর ফার্ন রোড ও সুইনহো লেনের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের পর থেকেই চাপের মুখে ছিল পুলিশ। নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশ— অপরাধের ইতিহাস রয়েছে এমন কাউকে কোনোভাবেই বাইরে রাখা যাবে না। এই নির্দেশ পালনে গাফিলতি এবং অপরাধীকে আড়াল করার প্রাথমিক প্রমাণ মেলায় ওসি বিশ্বজিৎ দেবনাথকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। কসবা থানার ‘অ্যান্টি রাউডি সেকশন’-এর ভূমিকাও এখন সন্দেহের ঊর্ধ্বে নয়।
ভোটের লড়াই শুরু হওয়ার আগেই পুলিশের খাতা থেকে অপরাধীর নাম মুছে যাওয়ার এই ঘটনা আবারও শহর কলকাতার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কঙ্কালসার রূপটি প্রকট করে দিল।