নিউজ ডেস্ক: নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে ফের বাড়ছে বারুদের আস্ফালন। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার ভোরে ভাটপাড়ায় হানা দিয়ে বড়সড় সাফল্য পেল পুলিশ। উদ্ধার হল দু’টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং তিন রাউন্ড কার্তুজ। এই ঘটনায় দুই কুখ্যাত দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভোটের ঠিক আগে শিল্পাঞ্চলে এইভাবে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।

জিলিপি মাঠে পুলিশের হানা:

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত দুই দুষ্কৃতীর নাম অজয় বিশ্বকর্মা এবং ফিরোজ আলম। বৃহস্পতিবার ভোরে জগদ্দল থানার জিলিপি মাঠ এলাকায় এই দু’জন লুকিয়ে রয়েছে বলে খবর পায় পুলিশ। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই অতর্কিতে হানা দেয় ভাটপাড়া থানার একটি বিশেষ দল। ঘটনাস্থল থেকেই তাদের পাকড়াও করার পাশাপাশি তল্লাশি চালিয়ে অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

পুরনো খুনের মামলায় যোগ:

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, ধৃত অজয় এবং ফিরোজের অপরাধের তালিকা বেশ দীর্ঘ। সম্প্রতি জগদ্দল এলাকায় এক যুবককে পিটিয়ে মারার ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরেই পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে তারা গা-ঢাকা দিয়েছিল। এবার নির্বাচনের মুখে অস্ত্র-সহ ধরা পড়ায় তাদের বড়সড় কোনও নাশকতার ছক ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

পরিসংখ্যানের বিচারে শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা:

ভাটপাড়া এলাকায় পুলিশের লাগাতার চিরুনি তল্লাশি যে সাফল্য দিচ্ছে, তার প্রমাণ মিলছে পরিসংখ্যানেই। পুলিশ সূত্রে খবর:

  • অস্ত্র উদ্ধার: গত ডিসেম্বর মাস থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৩৫টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে।

  • কার্তুজ: এই সময়ের মধ্যে সংগৃহীত হয়েছে ৫১টি তাজা কার্তুজ।

  • গ্রেপ্তার: অস্ত্র পাচার ও দুষ্কৃতীমূলক কাজের অভিযোগে মোট ২৭ জনকে শ্রীঘরে পাঠানো হয়েছে।

ভাটপাড়া থানার এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে এবং নির্বিঘ্নে ভোট পরিচালনা করতে এই ধরণের অভিযান আরও জোরদার করা হবে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের উৎস কোথায় এবং কারা এই কারবারের নেপথ্যে কলকাঠি নাড়ছে, তা জানতে ধৃতদের জেরা করা হচ্ছে। ভোটের মুখে নতুন করে কোনও এলাকা যাতে উত্তপ্ত না হয়, তার জন্য কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে শিল্পাঞ্চলের অলিগলি ও জিলিপি মাঠের মতো সংবেদনশীল এলাকায়।

Share on Social Media