ক্যালেন্ডারের পাতা বলছে, সামনেই ভ্রমণপিপাসুদের জন্য সুবর্ণ সুযোগ। ২৩ জানুয়ারি শুক্রবার নেতাজি জয়ন্তী, শনি ও রবিবার সাপ্তাহিক ছুটি, আর সোমবার ২৬ জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবস। সব মিলিয়ে টানা চার দিনের লম্বা ‘উইকএন্ড’। আর ঠিক এই সময়েই রেলের তরফে মিলছে বড় চমক—হাওড়া-কামাখ্যা বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেস।
শহুরে কোলাহল থেকে পালাতে চাইলে এই নতুন ঝাঁ-চকচকে ট্রেনে চড়ে পাড়ি দিতেই পারেন নীলাচল পাহাড়ের দেশে। কামাখ্যা দর্শন তো বটেই, সেখান থেকে জঙ্গল কিংবা পাহাড়—গন্তব্য বাছুন আপনার মেজাজ বুঝে। কীভাবে সাজাবেন ট্যুর প্ল্যান? রইল হদিশ।
ট্রেনের সময়সূচি ও রুট রেল সূত্রে খবর, আগামী ২৩ জানুয়ারি থেকেই চাকা গড়াতে পারে নতুন বন্দে ভারত স্লিপারের।
- ছাড়ার সময়: হাওড়া থেকে সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিট।
- পৌঁছনো: পরদিন সকাল ৮টা ২০ মিনিটে কামাখ্যা। (সময় লাগবে মাত্র ১৪ ঘণ্টা)।
- স্টপেজ: ব্যান্ডেল, নবদ্বীপধাম, কাটোয়া, আজিমগঞ্জ, নিউ ফরাক্কা, মালদহ টাউন, আলুয়াবাড়ি রোড, এনজেপি, জলপাইগুড়ি রোড, নিউ কোচবিহার, নিউ আলিপুরদুয়ার, নিউ বঙ্গাইগাঁও ও রঙ্গিয়া।
প্ল্যান ১: তীর্থ ভ্রমণ ও গুয়াহাটি দর্শন সকাল ৮টা ২০-তে কামাখ্যা পৌঁছে হোটেলে চেক-ইন করে নিন।
- কামাখ্যা মন্দির: ৫১ সতীপীঠের অন্যতম কামাখ্যা। নীলাচল পাহাড়ের ওপর এই মন্দির দর্শন ও পুজো দিতে অনেকটা সময় লাগতে পারে। তাই প্রথম দিনটা এর জন্যই বরাদ্দ রাখুন। মন্দিরের স্থাপত্যশৈলী এবং নীলাচল পাহাড় থেকে শহরের ভিউ আপনাকে মুগ্ধ করবেই।
- উমানন্দ ও ব্রহ্মপুত্র: দ্বিতীয় দিন ঘুরে দেখুন গুয়াহাটি শহর। ব্রহ্মপুত্র নদের বুকে ‘পিকক আইল্যান্ড’-এ অবস্থিত উমানন্দ মন্দির। যেতে হবে নৌকায়। বিকেলে চড়তে পারেন রোপওয়েতে, অথবা সূর্যাস্ত দেখতে ভেসে পড়ুন রিভার ক্রুজে। হাতে সময় থাকলে ঘুরে নিন বশিষ্ঠ মুুনির আশ্রম বা অশ্বক্লান্ত মন্দির।
প্ল্যান ২: জঙ্গলের ডাক (কাজিরাঙা বা মানস) যাঁরা জঙ্গল ভালোবাসেন, তাঁরা গুয়াহাটি না থেকে সোজা চলে যান অরণ্যে।
- পবিতোরা অভয়ারণ্য: গুয়াহাটি থেকে মাত্র ৫৫ কিমি দূরে। একে ‘মিনি কাজিরাঙা’ বলা হয়। প্রচুর একশৃঙ্গ গন্ডারের দেখা মেলে এখানে।
- কাজিরাঙা: হাতে দু-তিন দিন সময় থাকলে চলে যান ইউনেস্কো হেরিটেজ সাইট কাজিরাঙায়। জিপ বা হাতি সাফারি করে দেখুন গন্ডার, বাঘ আর বুনো মহিষ।
- মানস জাতীয় উদ্যান: যদি মানস যাওয়ার পরিকল্পনা থাকে, তবে কামাখ্যা পর্যন্ত না গিয়ে আগেই ‘নিউ বঙ্গাইগাঁও’ স্টেশনে নেমে পড়ুন। সেখান থেকে সড়কপথে মানস মাত্র ৭৪ কিমি।
প্ল্যান ৩: মেঘ-পাহাড়ের দেশে (মেঘালয়) পাহাড় যাঁদের প্রথম প্রেম, তাঁরা কামাখ্যা স্টেশনে নেমে গাড়ি ভাড়া করে সোজা চলে যান শিলং।
- শিলং ও চেরাপুঞ্জি: যাওয়ার পথেই পড়বে উমিয়াম লেক (বড়াপানি)। শিলং শহরে ওয়ার্ডস লেক, এলিফ্যান্ট ফলস দেখে পরদিন ভোরে বেরিয়ে পড়ুন চেরাপুঞ্জির উদ্দেশ্যে। নোহকালিকাই ফলস, সেভেন সিস্টার ফলস দেখে মন জুড়িয়ে যাবে।
- ডাউকি ও মাওলিনং: হাতে সময় থাকলে স্বচ্ছ জলের নদী ডাউকি এবং এশিয়ার পরিচ্ছন্নতম গ্রাম মাওলিনং ঘুরে আসতে পারেন। ডাউকির কাঁচের মতো স্বচ্ছ জলে নৌকাবিহার এক অন্য অভিজ্ঞতা দেবে।
টানা চার দিনের ছুটিতে এই নতুন ট্রেন আপনার ভ্রমণের অভিজ্ঞতাই বদলে দিতে পারে। তাই আর দেরি কেন? ব্যাগ গুছিয়ে তৈরি হয়ে নিন!