নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: মহাকাশ জয়েও এবার বাঙালির মস্তিষ্ক। এতদিন যে বিশেষ রাসায়নিকের জন্য আমেরিকার দিকে চাতক পাখির মতো তাকিয়ে থাকতে হতো ইসরোকে, এবার তা তৈরি হচ্ছে ঘরের কাছেই। সৌজন্যে আইআইটি খড়্গপুর (IIT Kharagpur)। রকেটের অত্যাবশ্যকীয় জ্বালানি বা প্রোপাল্যান্ট তৈরির ক্ষেত্রে খড়্গপুরের এই সাফল্যকে কার্যত কুর্নিশ জানালেন ইসরোর শীর্ষকর্তা ভি নারায়ণন।
রকেট সায়েন্সে ‘মেড ইন বেঙ্গল’ শনিবার নিউটাউনের আইআইটি খড়্গপুর রিসার্চ পার্কে আয়োজিত ‘ইমপ্যাক্ট রাইজ কনক্লেভ’-এ উপস্থিত ছিলেন ইসরোর অন্যতম শীর্ষ আধিকারিক তথা এলপিএসসি-র (LPSC) অধিকর্তা ভি নারায়ণন। সেখানেই তিনি জানান, মহাকাশ গবেষণায় ‘আত্মনির্ভর ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে আইআইটি খড়্গপুরের ভূমিকা অনস্বীকার্য। এতদিন রকেটের ইঞ্জিনের অগ্নিসংযোগের জন্য প্রয়োজনীয় ‘বোরন বেসড কেমিক্যাল’ বা প্রোপাল্যান্ট আমেরিকার থেকে প্রচুর ডলার খরচ করে আমদানি করতে হতো। কিন্তু এবার সেই দিন শেষ।
আইআইটি খড়্গপুরের গবেষক-অধ্যাপক শান্তনু পান্ডা এবং শিল্পোদ্যোগী দেবাশিস মণ্ডলের যৌথ উদ্যোগে তৈরি হচ্ছে এই বিশেষ রাসায়নিক। সব ঠিক থাকলে, ২০২৭ সালে ভারতের বহু প্রতীক্ষিত মহাকাশযান ‘গগনযান’-এর রকেটেও ব্যবহৃত হতে পারে দুই বাঙালির তৈরি এই প্রোপাল্যান্ট। ডিরেক্টর সুমন চক্রবর্তীর নেতৃত্বে আইআইটি-র এই স্টার্ট-আপ উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন নারায়ণন।
ব্যর্থতা থেকেই শিক্ষা: অন্বেষা ও অন্তর্ঘাত জল্পনা সম্প্রতি ডিআরডিও-র কৃত্রিম উপগ্রহ ‘অন্বেষা’-কে কক্ষপথে স্থাপনে ব্যর্থ হয়েছে ইসরোর পিএসএলভি-সি ৬২ রকেট। এই ঘটনার নেপথ্যে কোনো অন্তর্ঘাত বা ‘সাবোটাজ’ রয়েছে কি না, তা নিয়ে নানা মহলে জল্পনা ছড়িয়েছিল। এদিনের কনক্লেভে সেই জল্পনায় জল ঢেলেছেন ইসরো কর্তা। তিনি স্পষ্ট জানান, অন্তর্ঘাতের তত্ত্ব ভিত্তিহীন। মহাকাশ বিজ্ঞানে ব্যর্থতা একটি অংশ মাত্র, এবং সেই ভুল থেকেই শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে যেতে হয়।
ভবিষ্যতের ব্লু-প্রিন্ট এদিনের অনুষ্ঠানে ভারতের মহাকাশ অভিযানের আগামী দিনের রূপরেখাও তুলে ধরেন তিনি। জানা গিয়েছে:
- ২০২৭ সাল: মহাকাশে মানুষ পাঠাবে ভারত (গগনযান মিশন)।
- ২০৪০ সাল: চাঁদের মাটিতে পা রাখবে ভারতীয় রকেট।
- বর্তমানে ভারতের ৫৬টি সক্রিয় কৃত্রিম উপগ্রহ রয়েছে। আগামী ২-৩ বছরের মধ্যে এই সংখ্যা তিনগুণ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
এদিনের অনুষ্ঠানে পরমাণু বিজ্ঞানী কে এন ব্যাস, অধ্যাপক অভিজিৎ মুখোপাধ্যায়-সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। ক্লিন এনার্জি এবং সাসটেনেবল ডেভেলপমেন্ট নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন তাঁরা। তবে দিনের শেষে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল সেই এক টুকরো ‘বাংলা’—যা এবার আগুনের জোগান দেবে ভারতের রকেটে।