নিজস্ব সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: শীতের সকালে ফের দুঃসংবাদ রাজ্যের চটশিল্পে। আচমকাই ‘সাসপেনশন অফ ওয়ার্ক’-এর নোটিস ঝুলল হাওড়ার উলুবেড়িয়ার চেঙ্গাইল প্রেমচাঁদ জুট মিলে। আর তার জেরে এক লহমায় কর্মহীন হয়ে পড়লেন প্রায় চার হাজার শ্রমিক। মঙ্গলবার সকালে কারখানার গেটে তালা ঝুলতে দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েন শ্রমিকরা। কর্তৃপক্ষের দাবি, কাঁচা পাটের অভাব ও আর্থিক ক্ষতির জেরে এই সিদ্ধান্ত। তবে শ্রমিক সংগঠনগুলির অভিযোগ, এর নেপথ্যে রয়েছে অন্য অভিসন্ধি।

নোটিসে কী বলছে কর্তৃপক্ষ? মঙ্গলবার সকালে কাজে যোগ দিতে এসে শ্রমিকরা দেখেন, মিলের গেটে বড় বড় করে সাঁটানো রয়েছে ‘কাজ বন্ধের’ নোটিস। সেখানে জানানো হয়েছে, আপাতত আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মিল বন্ধ থাকবে। কিন্তু কেন এই হঠাৎ সিদ্ধান্ত? কর্তৃপক্ষের যুক্তি: ১. কাঁচা পাটের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং বাজারে পাটের তীব্র সংকট। ২. নগদ টাকা ছাড়া পাট মিলছে না, তার ওপর পাওয়া যাচ্ছে না উন্নত মানের পাট। ৩. মিলে বর্তমানে যে তাঁতগুলি চলছে, তার উৎপাদন ক্ষমতা তলানিতে এবং তা সম্পূর্ণ অলাভজনক। কর্তৃপক্ষের দাবি, দিনের পর দিন লোকসান হচ্ছিল। ইউনিয়ন ও শ্রমিকদের সহযোগিতা না পেয়েই বাধ্য হয়ে ঝাঁপ বন্ধ করতে হলো।

ক্ষুব্ধ শ্রমিক মহল, কী বলছে ইউনিয়ন? মালিকপক্ষের এই যুক্তি মানতে নারাজ শ্রমিক সংগঠনগুলি। মিলের টিইউসিসি (TUCC) ইউনিয়ন নেতা হাবিবুর রহমান সোজাসাপ্টা অভিযোগ করেন, ‘‘কাঁচা পাটের অভাব বা লোকসান—এসব আসলে অজুহাত। শ্রমিকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতেই পরিকল্পিতভাবে মিল বন্ধ করা হয়েছে।’’ তাঁর দাবি, আচমকা মিল বন্ধ হওয়ায় বিপাকে পড়লেন চার হাজার শ্রমিক ও তাঁদের পরিবার। শুধু তাই নয়, মিলের ওপর নির্ভর করে চলা স্থানীয় দোকানপাট ও ব্যবসায়ীদের রুজিরুটিতেও বড় ধাক্কা লাগল।

অবিলম্বে মিল খোলার দাবিতে গেটের সামনে বিক্ষোভ দেখান শ্রমিকরা। প্রশাসনের তরফে দ্রুত হস্তক্ষেপ না করা হলে বড়সড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে, চেঙ্গাইলের বাতাসে এখন শুধুই অনিশ্চয়তার আতঙ্ক।

Share on Social Media